দুই দশক আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের জন্য প্রতিষ্ঠিত নিজের স্কুলটি আগামী বছরের শেষে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অপরাহ উইনফ্রে। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার সাথে মেয়েদের শিক্ষার রূপান্তরকারী ক্ষমতা নিয়ে আলোচনার পর অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘অপরাহ উইনফ্রে লিডারশিপ একাডেমি ফর গার্লস’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্কুলটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ম্যান্ডেলা নিজেও উপস্থিত ছিলেন।
একাডেমির পক্ষ থেকে বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অপরাহ উইনফ্রে বলেন, তার লক্ষ্য কেবল একটি স্কুল নির্মাণ করা ছিল না, বরং তরুণীদের অসীম সম্ভাবনায় বিনিয়োগ করা ছিল। তিনি আরও জানান, এই মিশন একটি ক্যাম্পাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষার মাধ্যমে যেসব মেয়ের ভবিষ্যৎ বদলে যেতে পারে, তাদের সবার মধ্যেই এই লক্ষ্য অব্যাহত থাকবে।
স্কুলটি পরিচালনার পুরো ব্যয় বহন করত অপরাহ উইনফ্রের দাতব্য ফাউন্ডেশন। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, জোহানেসবার্গের কাছে অবস্থিত এই একাডেমি ক্যাম্পাসটি শেষ পর্যন্ত প্রাদেশিক শিক্ষা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল। বর্তমানে ৫২ একরের এই ক্যাম্পাসে ২১টি শ্রেণিকক্ষ, ছয়টি বিজ্ঞান ও কম্পিউটার ল্যাবরেটরি, ১০ হাজার বইয়ের লাইব্রেরি এবং ৬০০ আসনের একটি থিয়েটার রয়েছে। সম্পত্তিটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে গউটেং প্রাদেশিক সরকার এখনো কিছু জানায়নি।
গউটেং প্রাদেশিক শিক্ষামন্ত্রী লেবোগাং মেইলে জানিয়েছেন, বর্তমানে যারা এই স্কুলে পড়াশোনা করছে, তাদের শিক্ষা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একাডেমি জানিয়েছে, অপরাহ উইনফ্রের এই শিক্ষা কার্যক্রম এখন একটি সম্প্রসারিত জাতীয় বৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার শীর্ষস্থানীয় স্কুলগুলোতে মেধাবী ছাত্রীদের সহায়তা করবে।
অপরাহ উইনফ্রে চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী এই একাডেমি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছে এবং তাদের অনেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করছে। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে স্কুলটি চালুর পরপরই বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এক ডরমিটরি মেট্রনের বিরুদ্ধে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনলে এটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ে। সেই সময় উইনফ্রে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে দেখা করেন, ক্ষমা চান এবং একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে অভিযুক্ত মেট্রন ফৌজদারি অভিযোগ থেকে খালাস পান।

