রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ম্যাক মিলারের প্রাক্তন স্ত্রী এমিলি মোরেনো বৃহস্পতিবার আদালতের কাছে একটি নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছেন। ওহাইওর দুই মেয়াদের এই কংগ্রেসম্যান যাতে তার আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন, সেজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিলারের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তার নির্বাচনী প্রচারণা বেশ চাপের মুখে রয়েছে। মিলার অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আদালতের নথি ও পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১ ফেব্রুয়ারি ওহাইওর বে ভিলেজে নিজের বাড়িতে মিলার প্রাক্তন স্ত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মোরেনোর দাবি, মিলার তাকে দেয়ালে আছড়ে ফেলেছিলেন, যার ফলে তার হাতে ও পেটে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এর দুই সপ্তাহ পর তাদের সন্তানের ডান দিকের কলারবোন ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পুলিশের আলোচনার তথ্যও রিপোর্টে উঠে এসেছে। ওই রিপোর্টে আঘাতের চিহ্নটি হাতের ছাপের মতো বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোরেনো পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, মিলার অতীতে তার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়েছিলেন এবং ২০২৪ সালে ডিম ভাজার গরম পানি তার ওপর ছুড়ে মেরেছিলেন। এছাড়া মার্চ ২০২৫-এ আরও একটি ঘরোয়া সহিংসতার ঘটনার কথা জানিয়েছেন তিনি। আদালতে দেওয়া হলফনামায় মোরেনো উল্লেখ করেছেন যে, মিলার তার পূর্ববর্তী আইনি দলের সদস্যদেরও হুমকি ও হয়রানি করেছেন।
ম্যাক মিলার তার প্রাক্তন স্ত্রীর সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার প্রচারণার মুখপাত্র এবিগেইল অ্যাঞ্জেলোস এক বিবৃতিতে বলেছেন, আদালতের মাধ্যমে মিলার সন্তানের যৌথ অভিভাবকত্ব বজায় রেখেছেন, যা অভিযোগগুলোর অসারতা প্রমাণ করে। মিলার দাবি করেছেন, মোরেনো মানসিকভাবে অসুস্থ এবং তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
ম্যাক মিলার ওহাইওর সিনেটর বার্নি মোরেনোর মেয়ে এমিলি মোরেনোকে নিয়ে এই আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রাক্তন হোয়াইট হাউস সহযোগী স্টেফানি গ্রিশামের করা নির্যাতনের অভিযোগেরও মুখোমুখি হয়েছিলেন। গ্রিশামের দায়ের করা মানহানির মামলাটি মিলার পরে খারিজ করার আবেদন জানান। বর্তমানে মিলারের বিরুদ্ধে করা মোরেনোর আইনি লড়াই তার তৃতীয় মেয়াদের নির্বাচনী প্রচারণায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

