ফিলিস্তিন সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের আল-মুঘাইয়ির শহরে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন মূলত এলাকাটিকে বিচ্ছিন্ন করা এবং বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করার একটি কৌশল। এই সহিংসতা বন্ধে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শনিবার মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বের এই শহরে গত ২০ দিন ধরে ইসরায়েল এক 'শ্বাসরুদ্ধকর অবরোধ' আরোপ করে রেখেছে। শহরটির প্রবেশপথগুলো সিলগালা করে দেওয়ার পাশাপাশি বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা সময় দেওয়া হচ্ছে। এই কঠোর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে শহরে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যা নাগরিকদের ওপর নির্বিচার হামলার ঘটনাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলি এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো শহরটিকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করা। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলাকে একটি পরিকল্পিত নীতি হিসেবে বর্ণনা করে মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি ফিলিস্তিনিদের মধ্যে হত্যা, আতঙ্ক ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির বাস্তবতা তৈরি করতে চায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের অস্ত্র, রাজনৈতিক ও আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হলে তা অনিয়ন্ত্রিত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন কেবল মৌখিক নিন্দার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক, আইনি ও অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ফিলিস্তিনিদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা, অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে নিষিদ্ধ করা এবং দখলদারদের অস্ত্র ও অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করার দাবিও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার শুরু হওয়ার পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার আল-মুঘাইয়িরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় তিনজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন এবং আহতদের নিয়ে যাওয়ার সময় একটি অ্যাম্বুলেন্সকে আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।

