পশ্চিমা দেশগুলো কর্তৃক রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই ধরনের পদক্ষেপকে "জলদস্যুতা" ও "ডাকাতি" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। প্রশান্ত মহাসাগরে নৌমহড়ায় অংশ নেওয়া একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শনকালে পুতিন এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
পুতিন বলেন, রাশিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে আটকে রাখার পশ্চিমা এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "এটি জলদস্যুতা এবং ডাকাতি ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি এটি করা হয়, তবে আমরাও একই ধরনের জবাব দিতে বাধ্য হব।"
ক্রেমলিন প্রধান আরও স্পষ্ট করেন যে, রাশিয়ার এই প্রতিক্রিয়া কেবল জাহাজ জব্দের সুনির্দিষ্ট জলসীমাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মস্কো প্রশান্ত মহাসাগরসহ যেকোনো উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় এলাকায় পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
এই সফরকালে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের প্রধান অ্যাডমিরাল ভিক্টর লিনা প্রেসিডেন্ট পুতিনকে জানান যে, "অবন্ধুসুলভ দেশগুলোর" বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে তল্লাশি চালাতে তাদের নৌবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ, ফরাসি এবং অন্যান্য ইউরোপীয় কোম্পানির পরিচালিত অনেক জাহাজই অন্য দেশের পতাকা ব্যবহার করে ছদ্মবেশে চলাচল করছে, যা কার্যত একটি "শ্যাডো ফ্লীট" বা ছায়া বহর তৈরি করেছে।
অ্যাডমিরাল লিনা পুতিনকে আশ্বস্ত করে বলেন, "অবন্ধুসুলভ দেশগুলোর জাহাজ এবং তাদের ছায়া বহর পরিদর্শন ও আটকে রাখার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। আমরা এই দায়িত্ব পালন শুরু করতে প্রস্তুত আছি।"
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর রাশিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কো শত শত জাহাজের একটি ছায়া বহর ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হয়। ইতিমধ্যে ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহনের সন্দেহে রাশিয়ার ছায়া বহরের বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) এমন শত শত জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাশিয়া সম্প্রতি তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন শুরু করেছে।
এদিকে, দিমিত্রি মেদভেদেভ—যিনি পুতিনকে মেয়াদের সীমাবদ্ধতা মেনে চলতে দেওয়ার জন্য ২০০৮-২০১২ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং বর্তমানে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান—উল্লেখ করেছেন যে ইউরোপীয় বাহকগুলোর অনেক জাহাজ তথাকথিত সুবিধাজনক পতাকা উড়িয়ে চলাচল করে। তিনি বলেন, "এর অর্থ হলো একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায্য নীতি অনুসরণ করে রাশিয়ার যেকোনো শত্রু দেশের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর অধিকার রয়েছে, তা আমাদের জলসীমায় হোক বা আন্তর্জাতিক জলসীমায়।" শত্রুর স্বার্থে পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে এমন সন্দেহ করার যৌক্তিক কারণ থাকলে যেকোনো পণ্যের ক্ষেত্রেই এই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে এবং কৃষ্ণসাগর অববাহিকার বাইরেও রুশ সামরিক বাহিনী তাদের এই অভিযান ব্যাপকভাবে প্রসারিত করতে সক্ষম বলে তিনি জানান।

