অলি রবিনসন ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের জন্য এখন কেবল একজন বোলার নন, বরং এক নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ হয়ে উঠেছেন। লর্ডসে তার ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকারের পর, হেডিংলিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের শুরুতেই তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ম্যাচের প্রথম বলেই আজান আওয়াইসের উইকেট নিয়ে তিনি যেভাবে শুরু করেছিলেন, তাতে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়ার দাবিটি আরও জোরালো হয়েছে।
রবিনসন ১৮ ওভার বল করে ৫টি উইকেট শিকার করেছেন, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ পাঁচ উইকেট প্রাপ্তি। তার এই দুর্দান্ত বোলিংয়ে জশ টংয়ের সাথে জুটি বেঁধে সফরকারী পাকিস্তানের টপ অর্ডারের পাঁচজন ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরাতে সক্ষম হন তিনি। রবিনসন যখন মাঠ ছাড়েন, তখন বলটি তার হাতেই ছিল, যা তার সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের এক অনন্য স্বীকৃতি। ব্যক্তিগত জীবনেও গত সপ্তাহে দ্বিতীয় সন্তানের বাবা হওয়ার আনন্দ পেয়েছেন এই বোলার।
ইংল্যান্ড টেস্ট ক্রিকেটের জন্য সময়টা বেশ চ্যালেঞ্জিং। বেন স্টোকসের অবসরের পর এবং ব্রেন্ডন ম্যাককালামের বিদায়ের প্রেক্ষাপটে রবিনসনের এই পারফরম্যান্স দলের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। নতুন কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের পরিকল্পনায় রবিনসন যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রড পরবর্তী যুগে ইংল্যান্ডের বোলিং লাইনআপের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে শঙ্কা ছিল, রবিনসনের ২১.২৫ গড়ে উইকেট শিকারের পরিসংখ্যান সেই শঙ্কা কিছুটা হলেও দূর করছে।
হেডিংলির পিচে রবিনসনের বোলিং ছিল অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত। তিনি তার ১৮ ওভারের স্পেলে প্রায় ৭৮.৭ শতাংশ ডেলিভারি সঠিক লেন্থে ফেলেছেন। জো রুট যখন জফরা আর্চারকে সরিয়ে রবিনসনের ওপর আস্থা রেখেছিলেন, সেই সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। রবিনসন তার প্রথম স্পেলে শান মাসুদকে যেভাবে চাপে ফেলেছিলেন, তা ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্বের নতুন ধারারই বহিঃপ্রকাশ।
মাঝের সময়ে ইনজুরি ও ফিটনেস নিয়ে নানা সমালোচনার মুখে পড়লেও, রবিনসন নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওভালে হাঁটুতে চোট পাওয়ায় ম্যাচ মিস করা এবং ট্রেন্ট ব্রিজে দলের বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা তাকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করেছে। রবিনসন নিজেই জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত এবং যত বেশি খেলবেন, ততই তার ছন্দ ফিরে আসবে। রবিনসনের এই প্রত্যাবর্তন এবং ধারাবাহিকতা ইংল্যান্ড দলের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

