যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর জন কেনেডি রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, নভেম্বরে ভোটাররা যখন ভোটকেন্দ্রে যাবেন, তখন তাদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হবে জীবনযাত্রার ব্যয়।
‘ফেস দ্য নেশন উইথ মার্গারেট ব্রেনান’ অনুষ্ঠানে কেনেডি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। তাই প্রেসিডেন্টের জীবনযাত্রার ব্যয়ের দিকে নজর রাখাটা সহায়ক হবে। বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় সফর করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি জানান, সাধারণ বাবা-মায়েরা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চিন্তিত থাকেন। তিনি আরও বলেন, মানুষ ইরান নিয়েও কিছুটা উদ্বিগ্ন, কারণ তারা হয়তো পুরো পরিস্থিতি বুঝতে পারছে না, তবে তারা জানে যে এই বিষয়টি তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
সিনেটর কেনেডি প্রেসিডেন্টকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও অথবা জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনকে দিয়ে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার অনুরোধ করেছেন তিনি। কেনেডি বলেন, কেন আমরা ইরানে প্রবেশ করলাম, কেন আমরা জিতছি এবং কীভাবে আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসব—এই বিষয়গুলো দেশবাসীকে জানানো প্রয়োজন। তিনি স্বীকার করেন যে প্রেসিডেন্ট তার পরামর্শ সবসময় শোনেন না, তবে তিনি এই দাবি জানিয়ে যাওয়া অব্যাহত রাখবেন।
ইরান নিয়ে কেনেডি বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মতো বর্তমান পদক্ষেপগুলো চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে হরমুজ প্রণালী আংশিক বন্ধ থাকায় তেলের দাম বেড়ে গেছে, যা গ্যাসোলিনসহ সব পণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি সমাধানের কোনো উপায় বের করতে হবে অথবা চাপ বাড়াতে হবে, তবে তিনি কোনোভাবেই সেখানে সেনা পাঠানোর পক্ষে নন।
সরকারি অর্থে প্রেসিডেন্টের প্রচারণার বিজ্ঞাপন নিয়েও সমালোচনা করেছেন কেনেডি। তিনি বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তারই নিজেদের ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনের জন্য জনগণের টাকা খরচ করা উচিত নয়। এছাড়া, কোনো রাজনীতিক জীবিত থাকা অবস্থায় কোনো ভবনের নামকরণ তার নামে করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন এই রিপাবলিকান সিনেটর।
চলতি বছরের শুরুর দিকে, লুইজিয়ানার এই রিপাবলিকান সিনেটর সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমকে অবৈধ অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে ২২০ মিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপন প্রচারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন।

