টানা তিন ম্যাচ হারের পর অবশেষে জয়ের মুখ দেখল ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলি। স্তানিস্লাভ লোবোতকার একমাত্র গোলে বোলোনিয়াকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে সংকট কাটিয়ে উঠেছে তারা। অন্যদিকে, বোলোনিয়ার চরম বিপর্যয়কর মৌসুম অব্যাহত রয়েছে; চার রাউন্ড শেষে তাদের সংগ্রহ মাত্র ১ পয়েন্ট।
কোমো, ইন্টার মিলান এবং আর্সেনালের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে হেরে চরম সংকটে ছিল নাপোলি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আর্সেনালের কাছে হারের ম্যাচে চোটের তালিকায় যোগ হন গোলরক্ষক অ্যালেক্স মেরেত এবং অ্যালিসন সান্তোস। আগে থেকেই মাঠের বাইরে ছিলেন স্কট ম্যাকটমিনে, আন্দ্রে ফ্রাঙ্ক জাম্বো অ্যাঙ্গুইসা, জিওভানে, আলেসান্দ্রো বুওনজিওর্নো এবং লুকা মারিয়ানুচ্চি। আর্সেনালের বিপক্ষে প্রথমবার শুরুর একাদশে খেলা কেভিন ডি ব্রুইনা এবং বিলি গিলমোর এই ম্যাচেও ছিলেন। তবে শৃঙ্খলাজনিত কারণে নোয়া ল্যাংয়ের পরিবর্তে আন্তোনিও ভারগারাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
বোলোনিয়ার অবস্থাও ভালো ছিল না। তিন রাউন্ডে মাত্র ১ পয়েন্ট পাওয়া দলটির কোচ ডোমেনিকো টেডেসকো দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটাচ্ছেন। আর্তেম ডভবিক, রিকার্ডো ওরসোলিনি, নাদির জর্তেয়া এবং ওসামা এল আজুজি চোটের কারণে এই সফরে দলেই ছিলেন না। এছাড়া সভায় দেরিতে আসায় বাদ পড়েন নিয়মিত গোলরক্ষক লুকাস স্কোরুপস্কি, যার জায়গায় খেলেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ মাসিমো পেসিনা।
ম্যাচের শুরুতেই মাঠে রোমাঞ্চ ছড়ায়। খেলার তৃতীয় মিনিটে ডি ব্রুইনার ক্রসে ভারগারার হেড প্রতিহত করেন এমিল হোম। সপ্তম মিনিটে লুইস ফার্গুসনের ফ্রি-কিক থেকে আর্থার থিয়েট বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে বোলোনিয়ার সেই গোল বাতিল হয়। এরপর লিওনার্দো স্পিনাজোলার পাস থেকে ডি ব্রুইনার শট গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। মাত্তেও পলিটানোর ক্রসে রাসমুস হজলুন্ডের ডাইভিং হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, যেখানে তরুণ পেসিনা বলের নাগাল পাননি।
উভয় দলের হয়ে ভারগারা ও ফেদেরিকো বের্নার্দেস্কি গোলরক্ষকদের পরীক্ষা নেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নোয়া ল্যাং এবং কস্তান্তিনো ফাভাসুলিকে মাঠে নামানো হয়। মাঠে নামার ৪০ সেকেন্ডের মধ্যেই ল্যাং একটি শট লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন। এরপর ডি ব্রুইনার একটি আক্রমণ থিয়েট ও ফার্গুসন পেনাল্টি বক্সের ভেতর শরীর ছুড়ে দিয়ে রুখে দেন।
ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন লোবোতকা। ফাভাসুলির বাই-লাইন থেকে বাড়ানো ব্যাক-পাস ধরে মার্কো লিব্রাকে ফাঁকি দিয়ে পেসিনার পায়ের মাঝখান দিয়ে বল জালে পাঠান লোবোতকা। এরপর লোবোতকার পাস থেকে হজলুন্ডের চিপ করা শট দুর্দান্তভাবে রুখে দিয়ে ব্যবধান বাড়াতে দেননি পেসিনা।
শেষের দিকে বোলোনিয়া ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। স্যামুয়েল এমবাংগুলার শট সোজা মিলিনকোভিচ-সাভিচের হাতে জমা হয় এবং এনেমের হেড গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। অতিরিক্ত সময়ে নোয়া ল্যাংকে পাস না দিয়ে নিজেই শট নেওয়ায় লরেঞ্জো লুকার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন কোচ অ্যালেগ্রি। চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই গোল করতে ব্যর্থ হওয়া বোলোনিয়ার আক্রমণভাগের দুর্বলতা এই ম্যাচেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

