প্রতিদিন সোডা বা চিনিযুক্ত পানীয় পানের অভ্যাস পাকস্থলীর ক্যান্সার বা গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। ১৭ আগস্ট 'গ্যাস্ট্রো হেপ অ্যাডভান্সেস' জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। ম্যাস জেনারেল ব্রিগাম ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা ১ লাখেরও বেশি মানুষের কয়েক দশকের স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন অন্তত একটি চিনিযুক্ত পানীয় পান করেন, তাদের মধ্যে পাকস্থলীর ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি এটি পান না করা ব্যক্তিদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এই চিনিযুক্ত পানীয়ের তালিকায় সাধারণ সোডা, এনার্জি ড্রিংকস এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত জুস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ৬৩ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন অন্তত একবার চিনিযুক্ত পানীয় পান করেন।
গবেষণার সিনিয়র লেখক এবং ম্যাস জেনারেল ব্রিগাম ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ও এপিডেমিওলজিস্ট ডা. অ্যান্ড্রু টি. চ্যান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে চিনিযুক্ত পানীয় এবং পাকস্থলীর ক্যান্সারের সম্পর্ক নিয়ে এটাই প্রথম গবেষণা। পাকস্থলীর ক্যান্সার বিশ্বজুড়ে ক্যান্সারে মৃত্যুর পঞ্চম প্রধান কারণ, তবে খাদ্যাভ্যাস কীভাবে এতে ভূমিকা রাখে তা আমাদের কাছে খুব একটা স্পষ্ট ছিল না।”
গবেষকরা আরও উল্লেখ করেন যে, কোলোরেক্টাম, স্তন এবং লিভারের ক্যান্সারের সঙ্গেও এই ধরনের পানীয়ের সম্পর্কের প্রমাণ আগের গবেষণায় পাওয়া গিয়েছিল। মেয়ো ক্লিনিকের মতে, পাকস্থলীর ক্যান্সার পাকস্থলীর যেকোনো অংশে হতে পারে এবং রোগটি যখন উন্নত পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন এটি নিরাময় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে গবেষণায় কৃত্রিমভাবে মিষ্টি করা বা লো-ক্যালরি কার্বোনেটেড পানীয়ের সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যান্সারের কোনো সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। যদিও এর মানে এই নয় যে ডায়েট সোডা সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার অ্যাসপার্টেমকে সম্ভাব্য কার্সিনোজেন বা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যদিও ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) জানিয়েছে যে, নির্দিষ্ট দৈনিক সীমার মধ্যে অ্যাসপার্টেম গ্রহণ করা নিরাপদ।
গবেষণার লেখকরা কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেছেন। অংশগ্রহণকারীদের স্বাস্থ্য ও পারিবারিক ইতিহাসের তথ্যের সীমাবদ্ধতা এবং মূলত ৩০ থেকে ৭৫ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গদের ওপর ভিত্তি করে গবেষণাটি পরিচালিত হওয়ায়, এটি বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠী বা কম বয়সীদের ওপর কী প্রভাব ফেলে তা নিশ্চিত করা যায়নি। ভবিষ্যতে এই সম্পর্কের পেছনের জৈবিক কারণগুলো নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে তারা জানিয়েছেন। ওজন বৃদ্ধি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং প্রদাহের মতো বিষয়গুলো ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
