বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল বুধবার জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারত দলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে বোর্ড বেশ আশাবাদী। প্রস্তাবিত এই সিরিজে তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সিরিজটি আয়োজন করা অনেকগুলো শর্তের ওপর নির্ভর করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সিরিজটি কেবল ক্রিকেটীয় নয়, বরং রাজনৈতিক গুরুত্বও বহন করছে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, সিরিজটি আয়োজনের জন্য প্রথমে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এর আগে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় নিরাপত্তা কারণ দেখিয়ে ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিলে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিলেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হয়নি যা সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দেয়।
এ বিষয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ভারত সিরিজের বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো খবর নেই। তবে তিনি বিসিসিআইয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং বিসিবির সদস্যদের মধ্যে ইমেইল আদান-প্রদান চলছে। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সিরিজের উত্তেজনার মাত্রা সবসময়ই ভিন্ন। বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত নিরাপদ দেশ এবং ভারতীয় দল সফর করবে বলে তিনি আশাবাদী। তামিম আরও উল্লেখ করেন, বিসিবি সভাপতি হিসেবে তার দায়িত্বের জায়গা থেকে যা কিছু করা সম্ভব, তার সবটুকুই তিনি করছেন। তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে এই সিরিজের সুবিধাগুলো সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করছেন।
তামিম স্বীকার করেন যে, কিছু বিষয় তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এখন পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের সাথে আলোচনা বেশ ইতিবাচক হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই সিরিজটি হবে কি হবে না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্য একটি প্রসঙ্গে তামিম ইকবাল তার নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তার এবং বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আইসিসির প্রথম সভায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই কমিটির মূল দায়িত্ব হলো বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা, লিগগুলোর অনুমোদন দেওয়া এবং বিদ্যমান লিগগুলোতে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না তা যাচাই করা। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৯০ থেকে ১০০টিরও বেশি অ্যাসোসিয়েট সদস্য দেশ বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগের জন্য আবেদন করছে, যা এই কমিটির কাজের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে।

