ওল্ড ট্রাফোর্ডে বৃষ্টিবিঘ্নিত ফাইনালে সারে-কে ৭ উইকেটে হারিয়ে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ডাবল জয়ের এক ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছে দ্য ব্লেজ। গত মাসে ভাইটালিটি টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের শিরোপা জেতা নটিংহ্যামভিত্তিক এই দলটি এবার ঘরে তুলল ভাইটালিটি টি-টোয়েন্টি উইমেনস কাউন্টি কাপের ট্রফিও। এই জয়ে বল ও ব্যাট হাতে অনন্য অবদান রেখে ম্যাচসেরা হয়েছেন স্কটল্যান্ডের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ক্যাথরিন ব্রাইস।
টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় দ্য ব্লেজ। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ১৩ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সারে নির্ধারিত ১৩ ওভারে ৮ উইকেটে ৯১ রান তুলতে সক্ষম হয়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন কিরা চ্যাথলি (২৩ বলে)। কিন্তু দ্য ব্লেজের উইকেটরক্ষক সারা ব্রাইসের দারুণ এক রান আউটের শিকার হয়ে চ্যাথলি বিদায় নিলে সারের ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নেন ক্যাথরিনের দুর্দান্ত ইনসুইং বোলিং। একপর্যায়ে মাত্র ৮ রানে ৪ উইকেট নেওয়া ক্যাথরিনের শেষ তিন বলে অ্যালিস ডেভিডসন-রিচার্ডস ১০ রান নিলে তাঁর বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৪ ওভারে ১৮ রানে ৪ উইকেট। ক্যাথরিনের ছোট বোন সারা ব্রাইস উইকেটের পেছনে একটি ক্যাচ ও একটি রান আউট করে অবদান রাখেন।
৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্য ব্লেজের শুরুটা ছিল ঝোড়ো। ওপেনার এমা জোন্স ১৪ বলে ২২ রান করে দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন। অ্যালিস মোনাঘানের বলে জোন্স এবং ট্যামি বিউমন্ট দুজনেই ক্যাচ দিয়ে আউট হলে কিছুটা চাপে পড়েছিল দলটি। তবে জর্জিয়া এলউইসের সাথে জুটি বেঁধে বিপর্যয় সামাল দেন ক্যাথরিন ব্রাইস। এই জুটি মাত্র ৪ ওভারে ৪০ রান যোগ করে দলের জয় সহজ করে তোলেন। শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ৩৮ রান করে অপরাজিত থাকেন ক্যাথরিন। তাঁর সাথে ক্রিজে যোগ দেওয়া বোন সারা ব্রাইস ১ ওভার বাকি থাকতেই জয়সূচক সিঙ্গেলটি নেন এবং ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন। মোনাঘান ১৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন।
এর আগে সেমিফাইনালে ৫ ওভারের ম্যাচে এসেক্সকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠেছিল দ্য ব্লেজ। অন্যদিকে সারেও ৫ ওভারের অন্য সেমিফাইনালে সমারসেটকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল। তবে গত বছরের মতো এবারও ফাইনালে এসে স্বপ্নভঙ্গ হলো সারের। গত বছর টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী আসরে ল্যাঙ্কাশায়ারের কাছে হেরেছিল তারা।
এদিন ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনবরত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে খেলা পুরোপুরি পণ্ড হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এমনকি ইনডোর স্কুলে বোল আউট করার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী অবশ্য বোল আউট কেবল সেমিফাইনালের জন্যই প্রযোজ্য ছিল, ফাইনালের জন্য নয়। তবে মাঠকর্মী ও আম্পায়ারদের তৎপরতায় বৃষ্টি থামার সাথে সাথেই বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে খেলা শুরু করা সম্ভব হয়। সেমিফাইনাল ম্যাচগুলো ৫ ওভারে নামিয়ে এনে ফাইনালের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা হয় এবং রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে ফাইনাল ম্যাচটি মাঠে গড়ায়।

