প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক জনসমর্থন বা অনুমোদনের হার নতুন করে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান দলের জন্য একটি অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক ভোটারই কংগ্রেসের এই নির্বাচনকে বর্তমান প্রেসিডেন্টের কাজের ওপর একটি গণভোট হিসেবে বিবেচনা করছেন।
নির্বাচন ও জনমত জরিপ বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট ‘ফিফটিপ্লাসওয়ান’ (FiftyPlusOne)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ট্রাম্পের গড় অনুমোদনের হার ৩৪.৭ শতাংশ এবং অসমর্থনের হার ৬২ শতাংশ। অথচ তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম মাসেই এই অনুমোদনের হার ছিল ৫২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বিশ্লেষক জি. এলিয়ট মরিস জানান, তার প্রথম মেয়াদের তুলনায় বর্তমানে জনগণের প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি নেতিবাচক। গত ছয় মাসে জনমতের মোড় পুরোপুরি ঘুরে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফিফটিপ্লাসওয়ানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে ২৫টি এবং সিনেটে ৪ থেকে ৫টি আসন পেতে পারে, যা তাদের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট। মরিস বলেন, রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা খুবই কঠিন এবং চলমান তথ্য-উপাত্ত একটি বড় ‘ব্লু ওয়েভ’ বা ডেমোক্র্যাটিক জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর রয়টার্স/ইপসসের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ৩২ শতাংশে নেমে আসে, যা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের নতুন রেকর্ড সর্বনিম্ন। একই দিনে আমেরিকান রিসার্চ গ্রুপের জরিপে এই হার ছিল ২৯ শতাংশ। এছাড়া ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এমারসন কলেজের জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ৩৯ শতাংশ এবং অসমর্থনের হার প্রায় ৫৮ শতাংশ। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫৬ শতাংশ ভোটার মনে করেন, প্রেসিডেন্ট তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ কাজ করেছেন।
ট্রাম্পের এই নিম্নমুখী জনপ্রিয়তার কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানির উচ্চমূল্য, বাণিজ্য যুদ্ধ, অভিবাসন নীতি এবং ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ট্রাম্প বারবার সমর্থকদের তাকে ব্যালটে আছে বলে মনে করতে বলেছেন, তবে তার সাথে সংশ্লিষ্টতা স্বতন্ত্র ভোটারদের কাছে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড্যারন শ বলেন, রিপাবলিকানরা বর্তমান পরিস্থিতিতে এক ধরনের ভারী বোঝা বহন করছেন। মিশিগান এবং টেক্সাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইগুলোতেও ট্রাম্পের প্রভাব দৃশ্যমান। ভোটাররা ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে বার্তা দিতেই তার দলের প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করতে পারেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
