যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়ই তার নিজ শহর নিউ ইয়র্ক সিটিতে সংঘটিত আল-কায়েদার সেই ভয়াবহ হামলার কথা স্মরণ করেন, যার প্রায় ২৫ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। তবে এই দিনটি নিয়ে তার স্মৃতিচারণ বারবার বিভিন্ন অতিরঞ্জন এবং মিথ্যা তথ্যের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। এমনকি চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে হামলার স্মরণ অনুষ্ঠানেও তিনি এমন একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন, যার সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
হামলার পরপরই এক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সাথে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তার মালিকানাধীন '৪০ ওয়াল স্ট্রিট' ভবনটি এখন ডাউনটাউন ম্যানহাটনের দীর্ঘতম ভবন। তিনি দাবি করেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার তৈরির আগে এটিই ছিল দীর্ঘতম, কিন্তু এটি ভুল ছিল। কারণ সেই সময়ে ৭০ পাইন স্ট্রিট ভবনটি সেই অবস্থানে ছিল।
ট্রাম্পের আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী দাবি হলো, তিনি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারে সহায়তা করেছিলেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বলেছিলেন, সেখানে উপস্থিত থেকে তিনি নিজেই কিছু সহায়তা করেছিলেন। তবে ২০১৯ সালে পলিতিফ্যাক্ট-এর অনুসন্ধানে নিউ ইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের একজন ব্যাটালিয়ন চিফ জানান, ট্রাম্পের কোনো কর্মীকে সেখানে পাঠানোর কথা তার মনে নেই।
২০০১ সালের হামলার দিন নিউ জার্সির জার্সি সিটিতে হাজার হাজার মুসলিম আমেরিকান আনন্দ উল্লাস করেছিল বলে ট্রাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় দাবি করেছিলেন। যদিও বহুবার তথ্য যাচাইয়ে এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়াও ২০১৯ সালে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেন তিনি হামলার বার্ষিকীতে নাচছিলেন, কিন্তু সিবিএস নিউজ নিশ্চিত করে যে সেই অনুষ্ঠানটি ৯/১১-এ অনুষ্ঠিত হয়নি।
২০০০ সালে প্রকাশিত তার বই 'দ্য আমেরিকা উই ডিজার্ভ'-এ ওসামা বিন লাদেনকে ছোটখাটো সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি টুইটারে দাবি করেন, হামলার আগেই তিনি তার বইতে বিন লাদেনের কথা উল্লেখ করেছিলেন, যা সত্য নয়।
সবশেষে, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, হামলার পর লোয়ার ম্যানহাটনে পরিদর্শনের সময় দমকলকর্মীরা তাকে ওয়ান লিবার্টি প্লাজা ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় কাঁধে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিলেন। তবে এই দাবির সপক্ষেও কোনো প্রমাণ নেই এবং এটি অতিরঞ্জিত বলে বিবেচিত হয়েছে।

