রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রে ইউক্রেনের চালানো এক ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। রুশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৭৫ জন আহত হয়েছেন, যা মস্কোর সাথে ইউক্রেনের পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর অন্যতম ভয়াবহ একক হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউক্রেনীয় সীমান্ত থেকে ১,১০০ কিলোমিটারেরও (৬৮০ মাইল) বেশি দূরে অবস্থিত নিজনেকামস্ক শহরকে লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, নিজনেকামস্কের তানেভো তেল শোধনাগারে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফায়ারপয়েন্ট জানিয়েছে, এই হামলায় তাদের এফপি-১ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাতভর শুরু হয়ে সকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা ধরে এই হামলা চলে। এর আগে ১২ জুনও নিজনেকামস্কের তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন যাচাইকৃত ছবিতে দিনের আলোয় আকাশজুড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং আগুন জ্বলতে দেখা গেছে, যার পটভূমিতে সাইরেনের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
ইউক্রেনের সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিসইনফরমেশনের প্রধান আন্দ্রি কোভালেঙ্কো বলেন, ইউক্রেন যেসব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করছে, সেগুলো রাশিয়াকে যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা করছে, অস্ত্র তৈরি করছে এবং রাশিয়াকে অর্থনৈতিক সুবিধা দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ায় প্রতিটি বেসামরিক মৃত্যুর দায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। তার ভাষ্যমতে, পুতিন না থাকলে এই আগ্রাসন চলত না এবং এই মানুষগুলো বেঁচে থাকতেন।
মস্কো নিশ্চিত করেছে যে, হামলায় শিল্প স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হলেও আবাসিক এলাকাগুলোতেও আঘাত লেগেছে। রাশিয়ার ইনভেস্টিগেটিভ কমিটি জানিয়েছে, হামলায় এমন বেসামরিক ব্যক্তিরা আক্রান্ত হয়েছেন যারা কোনো সামরিক অভিযানের সাথে জড়িত ছিলেন না। তবে বিবিসি এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
তাতারস্তানের প্রধান রুস্তাম মিন্নিখানভ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন। নিজনেকামস্কের মেয়র রাদমির বেলায়েভ একে সবার জন্য এক বিশাল বেদনা বলে বর্ণনা করেছেন। তাতারস্তানে শোকের সময় ঘোষণা করা হয়েছে।
মস্কোর দাবি অনুযায়ী, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাতভর ইউক্রেনের ৪৫০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার ভেতরের বিভিন্ন স্থাপনা, বিশেষ করে গুদাম এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দীর্ঘপাল্লার হামলা জোরদার করেছে, যার ফলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।
এরই মধ্যে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও আবাসিক এলাকায় নিয়মিত বড় ধরনের আকাশ হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত সপ্তাহে কিয়েভে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২১ জন নিহত হন। এছাড়াও ফ্রন্টলাইনের কাছে খারকিভে রাশিয়ার গোলার আঘাতে আরও পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন।

