রাশিয়া ও ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটে বিপুল ভোটে একটি বিল অগ্রসর হয়েছে। 'লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬' (এইচ.আর. ৫৩৩৪) বিলটির ওপর বিতর্ক শুরু করার জন্য আনা একটি প্রক্রিয়াগত প্রস্তাবের পক্ষে ৮৬টি এবং বিপক্ষে ১২টি ভোট পড়ে। এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা এবং ইরানের জ্বালানি খাতের আয় সংকুচিত করা।
ঐতিহাসিক এই ভোটাভুটি প্রত্যক্ষ করতে মার্কিন সিনেট গ্যালারির সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বিলটির মূল রচয়িতা প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তিনি সেখানে উপস্থিত হন, যার শেষকৃত্য ওই দিন সকালেই সম্পন্ন হয়েছিল। ভোটাভুটির আগে ক্যাপিটলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি এই বিলটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
জেলেনস্কি বলেন, "এটি কেবল অর্থের বিষয় নয়… এটি ইউরোপের জন্য একটি বড় সংকেত, ইউক্রেনের জন্য একটি বড় সংকেত এবং আমাদের জনগণের জন্য একটি বড় সমর্থন। তাই আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।" ওয়াশিংটন সফরকালে ইউক্রেনীয় এই নেতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সিনেটরদের সাথে জরুরি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষ করে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক সিস্টেমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবিত এই বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে একটি বিশেষ ক্ষমতা আসবে। এর ফলে তিনি রাশিয়ার জ্বালানির প্রধান ক্রেতা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। এই দেশগুলোর মধ্যে ভারত, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করার অনুরোধ জানানোর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিলটির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
তবে এই শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে আমদানির ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেতে পারে, যা আগামী সেপ্টেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) বিলটির চূড়ান্ত পাসের পথকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এই বিষয়ে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য গ্রেগরি মিকস বলেন, "এটি আসলে কোনো নিষেধাজ্ঞা বিলের চেয়েও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার একটি বড় ধরনের পরোক্ষ ক্ষমতা মাত্র।"
অন্যদিকে, বিলটির পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়ে সিনেটর জিন শাহিন বলেন, "ইউক্রেনকে সমর্থন করার জন্য এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় সুযোগ, যারা কেবল নিজেদের দেশকেই নয়, বরং পুরো ইউরোপকে রক্ষা করছে।"

