ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বিশাল সুবিধার কথা বিবেচনা করলে এর সঙ্গে জড়িত কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া যুক্তিযুক্ত। পলিটিকোর প্রযুক্তিবিষয়ক নিউজলেটার 'ডিকোডেড'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মত প্রকাশ করেন। অল্টম্যানের মতে, এআই প্রযুক্তিকে সবার জন্য সহজলভ্য রাখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এই প্রযুক্তির সুফল পেতে এবং মানুষের সক্ষমতা বাড়াতে বিশ্বকে কিছু নেতিবাচক ঘটনা মেনে নিতে হবে। অল্টম্যান মনে করেন, এআই নিয়ে ভুল কিছু ঘটার ভয়ে প্রযুক্তিটির উন্নয়ন আটকে রাখা বা এর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা একটি অগ্রহণযোগ্য আপস। তিনি জানান, প্রযুক্তির অপব্যবহার বা বড় ধরনের হ্যাকিংয়ের মতো ঝুঁকি থাকলেও এর মাধ্যমে মানুষ যে পরিমাণ ভালো কাজ করবে, তা নেতিবাচক প্রভাবের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।
এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে অল্টম্যান ও এর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি এতই শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে যে সান ফ্রান্সিসকোর একটি ল্যাব থেকে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব—এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। অল্টম্যান ওপেনএআই-এর পক্ষ থেকে এআই বিষয়ে তুলনামূলক নমনীয় নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এআই শিল্পের বিকাশের গতি ও এর ঝুঁকি নিয়ে বর্তমানে তীব্র বিতর্ক চলছে। গত সেপ্টেম্বরে অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদি এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ধীর করার আহ্বান জানান, যা অল্টম্যান প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। একই সময়ে অ্যানথ্রোপিকের গবেষক জ্যাকব কক্সন পদত্যাগ করেন। তিনি দাবি করেন, যারা এআই তৈরি করছেন, তাদের অনেকেই মনে করেন এই প্রযুক্তি দশকের শেষ নাগাদ মানবজাতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই প্রযুক্তিতে নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, নতুন নিয়ম আরোপ করলে চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়বে। ট্রাম্পের মতে, বিদ্যমান আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোই এআই সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট।
অ্যানথ্রোপিক অবশ্য সতর্ক করে বলেছে যে, এআই কখনো কখনো তাদের নির্মাতাদের উদ্দেশ্যের বিপরীতে কাজ করতে পারে। তাদের মতে, উন্নত মডেলগুলো নিজেদের বন্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করা, তথ্য গোপন বা কারসাজি করা কিংবা প্ররোচনামূলক আচরণ প্রদর্শনের মতো আত্মরক্ষামূলক প্রবণতা দেখাতে পারে।

