২১ আগস্ট ২০২৬, রাত ১:৫৫ মিনিটে প্রকাশিত এবং ১:৫৬ মিনিটে আপডেট হওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বাজারে সবজি ও কাঁচামরিচের দাম কমলেও ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও মাছের বাজারে স্বস্তি নেই। টানা ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসায় সবজির সরবরাহ বেড়ে অধিকাংশের দাম কমেছে। বৃহস্পতিবার কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায়, যা গত কয়েক সপ্তাহজুড়ে উচ্চদামে ছিল। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি এবং দেশি মরিচের সরবরাহ বাড়ায় এই দাম কমেছে। এছাড়া পেঁয়াজের দামও কেজিতে ১০ টাকা কমে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার ও কালীগঞ্জ বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দাম ৮০ টাকার নিচে নেমে এসেছে, যা গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে উচ্চদামে বিক্রি হচ্ছিল। বেগুন ও টমেটো এখনো ১২০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন শিম ১৪০-১৬০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা, ধুন্দল-লাউ-পটোল-চিচিঙা ৪০-৬০ টাকা, কচুর লতি ৯০-১১০ টাকা এবং করলা ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বরবটি-ঝিঙে ৭০ টাকা, কচুরমুখী, কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়স ও পটোল ৪০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাকসবজির দামও কমেছে এবং লেবুর দাম ডজনপ্রতি ২০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
নয়াবাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নজরুল ইসলাম বলেন, কদিন আগেও ৮০-১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছিল না, এখন দাম অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসছে। তিনি মনে করেন, ব্যবসায়ীরা যাতে ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করতে না পারেন, সেজন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং প্রয়োজন। সবজি ব্যবসায়ী জাকিয়া জানান, টানা বৃষ্টিতে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছিল, এখন সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে এবং নতুন সবজি বাজারে আসায় দাম আরও কমতে পারে।
মাংসের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা বেড়ে ১৯০ টাকা, সোনালি ২৯০-৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস ৭৮০-৮০০ টাকা কেজি। ডিমের বাজারেও অস্বস্তি অব্যাহত রয়েছে; সাদা ডিমের ডজন ১৪০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪৫-১৫০ টাকা। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও একই চিত্র; তেলাপিয়া ২৫০-৩০০ টাকা, পাঙাস ২৫০ টাকা, রুই-কাতল ৩৮০-৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১,০০০-১,৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২,৫০০ টাকা এবং ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে।
সবজি-মাছ-ডিমের পাশাপাশি আটা ও ময়দার দামও বেড়েছে। মোড়কজাত আটা (২ কেজি) ১২০-১৩০ টাকা এবং খোলা আটা কেজিতে ৬-১০ টাকা বেড়ে ৪৫-৫০ টাকা হয়েছে। মোড়কজাত ময়দা (২ কেজি) ১৩০ থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং খোলা ময়দা কেজিতে ৫-৭ টাকা বেড়ে ৬২ থেকে ৬৫ টাকায় ঠেকেছে। চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে; মোটা চাল ৫২-৫৫ টাকা, বিআর-আটাশ ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭০-৭৮ টাকা এবং কাটারি নাজির ৮৫ টাকা কেজি। তবে পোলাও চাল এখনো ২০০-২৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি ও কাঁচামরিচের দাম কমলেও রাজধানীর বাজারে ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও মাছের বাজারে স্বস্তি নেই। বৃহস্পতিবার কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৮০-১২০ টাকায়, যা গত কয়েক সপ্তাহজুড়ে উচ্চদামে বিক্রি হয়েছিল। অন্যান্য সবজির সরবরাহ বেড়ে দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
টানা ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসায় সরবরাহ বেড়ে কমেছে অধিকাংশ সবজির দাম। তবে নদীর মাছের সরবরাহ কম থাকায় চাষের মাছের ওপর চাপ বেড়েছে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

