যুক্তরাষ্ট্রের কৌঁসুলিরা ভেনিজুয়েলার সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে নির্যাতনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার নতুন অভিযোগ এনেছেন। বৃহস্পতিবার এই নতুন অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আনা হয়। এর আগে তাদের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে, যা তারা অস্বীকার করে আসছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক ভোরে মার্কিন বাহিনী তাদের বাসভবনে অভিযান চালিয়ে মাদুরো (৬৩) ও ফ্লোরেস (৬৯) কে আটক করে। এরপর থেকেই তারা ব্রুকলিনের একটি ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি রয়েছেন। মাদুরোর আইনজীবী ব্যারি জে পোলাক জানিয়েছেন, তার মক্কেল নতুন এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন এবং আদালতের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ফেডারেল কৌঁসুলিরা আরও জানিয়েছেন যে, ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে আগের নারকো-টেরোরিজমের অভিযোগটিও যুক্ত করা হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের জুন মাসে এই দম্পতির বিচার শুরুর দিন ধার্য করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফ্লোরেসের গৃহবন্দি হওয়ার আবেদন আদালত প্রত্যাখ্যান করায় তাদের ব্রুকলিনের ওই কেন্দ্রেই থাকতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন এই অভিযোগগুলো মাদুরোর শাসনামলে ভেনিজুয়েলায় বন্দি থাকা মার্কিন নাগরিকদের ওপর নির্যাতনের সাথে সম্পর্কিত। বৃহস্পতিবার আদালত থেকে প্রাপ্ত নথিতে দাবি করা হয়েছে, এই দম্পতি রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর সহিংসতা, নির্বিচারে বন্দি রাখা এবং বন্দিদের নির্যাতনের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা সুসংহত করেছিলেন।
কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, নির্যাতনের তালিকায় বৈদ্যুতিক শক, শ্বাসরোধ, ধর্ষণ, জোরপূর্বক নগ্ন রাখা, দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন রাখা, অনাহার, শাস্তিমূলক সেল এবং মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মধ্যে ভুক্তভোগীদের পরিবার ও শিশুদের হত্যার হুমকিও ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কৌঁসুলিদের মতে, মাদুরো ও ফ্লোরেস নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য এসব কাজ করেছেন।
ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি দমনমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেছেন। এমনকি তিনি নির্দিষ্ট বন্দিদের ওপর নির্যাতনের আপডেটও নিতেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিজের পরিবারের সদস্যদের অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করতেই তিনি এসব করেছেন। ভেনিজুয়েলার মানবাধিকার কর্মী জাভিয়ার তারাযোনা ও সাবেক বন্দি অ্যাঞ্জেল গডয় এর আগে কারাবন্দি অবস্থার ভয়াবহতা ও নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন।
মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতির পর তার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থনে অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যদিও সাধারণ ক্ষমার আওতায় শত শত রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবে ফরও পিনাল নামক মানবাধিকার গোষ্ঠীর তথ্য অনুযায়ী, এখনও ৩০০ জনের বেশি বন্দি কারাগারে রয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেছেন, মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও ভেনিজুয়েলায় বন্দিদের ওপর নির্যাতনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেই সময় ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুর্কের বিরুদ্ধে চরমপন্থীদের এজেন্ডা প্রচারের অভিযোগ তুলেছিলেন।

