যুক্তরাষ্ট্র থেকে দক্ষিণ সুদানে বিতাড়িত লাওসের এক নাগরিক দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় আফ্রিকায় বন্দি থাকার পর অবশেষে নিজ দেশে ফিরেছেন। ৪৯ বছর বয়সী থংসে নিলাকাউত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবা থেকে লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনের উদ্দেশে রওনা হন। তিনি গত জুলাই ২০২৫ সাল থেকে জুবায় বন্দি ছিলেন।
নিলকাউতের আইনজীবী তিন এনগুয়েন জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত হওয়ার আগেই নিলাকাউত লাওসে ফিরে যেতে সম্মত ছিলেন। এমনকি লাওসের এক কনস্যুলার কর্মকর্তা তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন যে, তার জন্য ভ্রমণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইস্যু করা হয়েছে। আইনজীবী এনগুয়েন এক বিবৃতিতে বলেন, নিলাকাউতের লাওসে ফিরে আসা কেবল তার পরিবারের জন্যই স্বস্তির নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে আমরা শুরু থেকেই যা দাবি করেছি তা সঠিক ছিল। তাকে শুরু থেকেই লাওসে পাঠানো উচিত ছিল।
দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে যে, তারা লাওস সরকারের সাথে সমন্বয় করে নিলাকাউতের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করেছে। লাওস সরকার তাকে দেশে ফেরার পর নির্যাতন বা অন্য কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা দিয়েছে। এদিকে, নিলাকাউতের মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানায়, তারা এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত করছে এবং আরও সময় চেয়েছে।
নিলকাউত এবং আরও সাতজন ব্যক্তিকে মে ২০২৫ সালে আফ্রিকায় পাঠানো হয়েছিল। এক ফেডারেল বিচারক মাঝ আকাশে তাদের দক্ষিণ সুদানে বিতাড়ন আটকে দিলে প্রথমে তাদের জিবুতিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তাদের দক্ষিণ সুদানে পাঠানো হয় এবং সামরিক বিমানে করে জুবায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই আটজনকেই সেখানে সশস্ত্র প্রহরায় একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল। তাদের সবারই যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের রেকর্ড ছিল এবং অভিবাসন হেফাজতে নেওয়ার আগে তারা সেখানে কারাদণ্ড ভোগ করেছেন।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট এবং রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, শত শত মানুষকে তাদের নিজ দেশ নয় এমন আফ্রিকান দেশগুলোতে বিতাড়িত করা হয়েছে। দক্ষিণ সুদানকে বিতাড়নের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছিল, কারণ দেশটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিদ্যমান। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সেখানে সশস্ত্র সংঘাতের কারণে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
আইনজীবীর ভাষ্যমতে, নিলাকাউত শিশু অবস্থায় ১৯৮০ সালে লাওস থেকে পালিয়ে পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি সশস্ত্র ডাকাতির সময় এক জার্মান পর্যটককে হত্যার দায়ে ১৭ বছর বয়সী নিলাকাউতকে প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১২ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে কিশোর অপরাধীদের জন্য বাধ্যতামূলক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অসাংবিধানিক ঘোষিত হওয়ায় তিনি প্যারোলের যোগ্য হন। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি রেস্তোরাঁর রাঁধুনি হিসেবে কাজ করছিলেন। এরপর মার্চ ২০২৫ সালে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট তাকে হেফাজতে নেয়।
বর্তমানে নিলাকাউত ছাড়া আরও পাঁচজন তৃতীয় দেশের নাগরিক দক্ষিণ সুদানে বন্দি রয়েছেন, যার মধ্যে দুজন বার্মিজ, দুজন কিউবান এবং একজন কঙ্গোলিজ নাগরিক রয়েছেন। দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পাঁচজনের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, তারা সংশ্লিষ্ট সরকার এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে নিরাপদ ও মানবিক প্রত্যাবাসনের জন্য কাজ করছে।

