ভিয়েতনামের উদীয়মান মহাকাশ শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের (SpaceX) সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেছে দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ভিনস্পেস (VinSpace)। ২০২৭ সালে স্পেসএক্সের একটি ‘রাইডশেয়ার’ মিশনের মাধ্যমে নিজেদের তৈরি প্রথম স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাবে ভিয়েতনামী এই প্রতিষ্ঠানটি। গত মঙ্গলবার এক ঘোষণায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ভিনস্পেস জানিয়েছে, এই স্যাটেলাইটগুলো তারা নিজেরাই তৈরি ও পরিচালনা করবে। এর মূল লক্ষ্য হলো কক্ষপথে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক ব্যবহারের পথ সুগম করা। ভিনস্পেস হলো ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠী ‘ভিনগ্রুপ’ (Vingroup)-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, যা ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই তারা ২০২৭ সালের মধ্যে প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।
ভিনগ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ভিয়েতনামের শীর্ষ ধনী ফাম নাট ভুওং। আবাসন, খুচরা ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং পর্যটনের মতো দৈনন্দিন জীবনের নানা খাতে এই শিল্পগোষ্ঠীর আধিপত্য রয়েছে। তবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বৈদ্যুতিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং মহাকাশ প্রযুক্তির মতো উচ্চ-প্রযুক্তি খাতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। এশিয়ায় পরবর্তী শক্তিশালী অর্থনীতি বা ‘টাইগার ইকোনমি’ হিসেবে ভিয়েতনামের আত্মপ্রকাশের যে লক্ষ্য, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
বেশ কয়েক দশক ধরে ভিয়েতনাম তাদের মহাকাশ সক্ষমতা বাড়াতে চেষ্টা করলেও বিশ্ব বাজারে এখনও তারা বেশ পিছিয়ে রয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০০৮ সালে দেশটি তাদের প্রথম টেলিযোগাযোগ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে এবং ২০১২ সালে পাঠায় দ্বিতীয়টি। এরপর চলতি বছরের মার্চ মাসে হ্যানয়ের হোয়া লাক হাই-টেক পার্কে একটি বড় মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র চালু করা হয়, যার উদ্দেশ্য স্যাটেলাইট উন্নয়ন এবং মহাকাশ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ব্যবহার বাড়ানো। ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি মাঝারি মানের মহাকাশ শক্তিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ভিয়েতনামের।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভিয়েতনামে স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর অনুমতি দেয় দেশটির সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এড়াতে ভিয়েতনামের পক্ষ থেকে নেওয়া একটি কৌশলগত পদক্ষেপ ছিল এটি। ইতিমধ্যেই ভিয়েতনামে স্টারলিংকের অর্ডার নেওয়া শুরু হয়েছে।
ভিনস্পেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) থু ভু এক বিবৃতিতে বলেন, "স্যাটেলাইট খাতের নতুন উদ্ভাবনগুলোকে বাস্তব মিশনে রূপ দেওয়ার জন্য মহাকাশে নির্ভরযোগ্য প্রবেশাধিকার থাকা অত্যন্ত জরুরি।" এই চুক্তির মাধ্যমে ভিনস্পেস স্যাটেলাইট ডিজাইন, তৈরি, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাপনা এবং মহাকাশ-ভিত্তিক ডেটা সেবা দেওয়ার মতো পূর্ণাঙ্গ মহাকাশ সংস্থায় পরিণত হতে চায়। তবে স্পেসএক্সের সঙ্গে এই চুক্তির আর্থিক মূল্য কত কিংবা কতটি স্যাটেলাইট পাঠানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

