ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে একটি অস্বাভাবিক শুষ্ক মৌসুমের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে দেশজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে খরা, শক্তিশালী বাতাস এবং এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব জাভা প্রদেশের মাউন্ট ব্রোমোতে, যা ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরু জাতীয় উদ্যানের অন্তর্ভুক্ত। এটি ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এই সপ্তাহে দাবানলে উদ্যানটির প্রায় ১৭৬ হেক্টর (৪৩৫ একর) এলাকা পুড়ে গেছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় গত শনিবার কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের জন্য উদ্যানটি বন্ধ ঘোষণা করেছে। উদ্যানটির প্রধান রুদিজান্তা চাহজা নুগরাহা জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শত শত দমকলকর্মী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মী, পুলিশ, সেনা সদস্য, বনরক্ষী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে লাগানো হয়েছে। আগুন যাতে আর ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি ফায়ারব্রেক বা অগ্নিনির্বাপক পথ তৈরি করা হচ্ছে। তবে নুগরাহা জানিয়েছেন, দুর্গম এলাকা এবং আগ্নেয়গিরির খাড়া ঢাল হওয়ার কারণে স্থলপথে অগ্নিনির্বাপক দলগুলোর জন্য পৌঁছানো বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, শক্তিশালী বাতাস এবং শুষ্ক গাছপালা আগুনের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করছে। অস্ট্রেলিয়ার দিক থেকে আসা শুষ্ক মৌসুমী বায়ু এবং এল নিনোর প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আগুনের ঝুঁকি বেড়েছে। সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে শুষ্ক মৌসুমে প্রায়ই এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে বাগান মালিক বা স্থানীয় কৃষকরা জমি পরিষ্কার করার জন্য অবৈধভাবে আগুন জ্বালিয়ে থাকেন, যা পরবর্তীতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বিপজ্জনক ধোঁয়া বা হ্যাজ তৈরি করে।

