ইয়েমেনের মোখা শহর ও এর আশপাশের পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে হুথি বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করেছে দেশটির সরকারি সেনাবাহিনী। শুক্রবার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই বিমান হামলার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবারই সেনাবাহিনী তায়েজ-মোখা সড়কটিকে সামরিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মজিদ আল-নুজাইলি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বেসামরিক নাগরিকদের তায়েজ-মোখা এবং মোখা-ধুবাব সড়ক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আল-জুমহুরিয়া টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মোখা, খালিদ ক্যাম্প এবং জাবাল আল-নার এলাকায় হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে একের পর এক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সম্প্রচারমাধ্যমটির সূত্র অনুযায়ী, মোখার একটি পানি ও পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পের কম্পাউন্ডের ভেতরে হুথিদের একটি বড় সমাবেশ লক্ষ্য করে একটি বিমান হামলা চালানো হয়। এছাড়া স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, মোখার আল-হালির সুক আল-খারজ এলাকায়ও বিমান হামলা আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় জেলা ধুবাব আল-মান্দাবে হুথিদের সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করেও ভারী বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
দীর্ঘ কয়েক বছর আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতির পর গত জুলাইয়ের শুরুতে ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। সম্প্রতি এই লড়াই তীব্র আকার ধারণ করায় দেশটির যুদ্ধক্ষেত্রের মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। হুথিদের দাবি, তারা এখন পুরো হুদাইদাহ প্রদেশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং পশ্চিম তায়েজে অগ্রসর হয়ে মোখা শহর ও এর লোহিত সাগরীয় বন্দর দখল করেছে। এমনকি তারা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছে গেছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীও সৌদি সীমান্ত সংলগ্ন উত্তরের আল-জাউফ প্রদেশে সাফল্য পেয়েছে এবং প্রাদেশিক রাজধানী আল-হাজমের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। পাশাপাশি মারিব, আল-বায়দা এবং আল-ধালেয়া ফ্রন্টেও লড়াই অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইরান-সমর্থিত হুথিরা রাজধানী সানা ও দেশের বড় অংশ দখল করে নেওয়ার পর প্রায় ১২ বছর ধরে যুদ্ধ চলে। এরপর ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দেশটিতে এক ধরনের আপেক্ষিক শান্তি বজায় ছিল। তবে ২০২৩ সালের শেষদিক থেকে হুথিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ইসরায়েলে হামলা শুরু করায় এবং নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় ইয়েমেনে আবারও পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

