ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে কার্পেথিয়ান অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের নিয়ে প্রথম শীর্ষ সম্মেলন উদ্বোধন করেছেন। প্রতিবেশী ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্মেলন সম্পর্কে জেলেনস্কি শুক্রবার বলেন, এই আয়োজন কার্পেথিয়ান অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলো এবং মহাদেশের সেই সব ইউরোপীয়দের একত্রিত করেছে যারা প্রতিটি জাতির স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধা করে। সম্মেলনে রোমানিয়া, সার্বিয়া, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন।
জেলেনস্কি আরও বলেন, কার্পেথিয়ান ম্যাক্রো-অঞ্চল ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার অন্যতম নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হয়ে উঠেছে। এটি এমন এক শক্তি যা বিদ্যমান এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি জানান, এই সম্মেলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের একত্রিত করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং লজিস্টিকস নিয়ে আলোচনা করা হবে, বিশেষ করে যখন রাশিয়া ইউক্রেনের পরিবহন পথগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
রাশিয়ার সাথে যুদ্ধের পঞ্চম বছরে থাকা ইউক্রেন তাদের যুদ্ধপ্রচেষ্টা টিকিয়ে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন আর্থিক ও সামরিক সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্ক সম্মেলনের আগে সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেনসহ আমাদের সবার জন্যই কঠিন সপ্তাহ ও মাস সামনে আসছে। এমন সময়ে সংহতি প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই প্রতিরক্ষার জন্য ব্যয় করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের সহায়তাসহ আগামী বছরের জন্য আরও ৫৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কিয়েভ। একইসাথে, রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার জেট-চালিত ড্রোন প্রতিহত করার জন্য ইন্টারসেপ্টর তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

