জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে একটি ফেরি ডুবে অন্তত ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়া সীমান্তের এই হ্রদটিতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটি উল্টে গিয়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে হ্রদের পানিতে ফেরির উল্টে যাওয়া কাঠামো ভেসে থাকতে দেখা গেছে।
নির্ধারিত ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ফেরিটিতে ৯০ জন যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু থাকার কথা ছিল। তবে স্থানীয় এক কর্মকর্তার তথ্যমতে, ১২ জন শিশুসহ মোট ১২০ জন যাত্রী ওই ফেরিতে ছিলেন। জিম্বাবুয়ে সিভিল প্রোটেকশন ইউনিটের (সিপিইউ) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত টিকিট বিক্রির হিসাব অনুযায়ী ফেরিতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ছিলেন। এর বাইরে টিকিট কাটার বয়সের নিচে থাকা কতজন শিশু onboard ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাক্সটন কানহেমা এএফপিকে জানান, খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে ফেরিটি যাত্রা করেছিল। ঢেউয়ের আঘাতে ফেরির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, মানুষ চরম বিপদে পড়েছিল, পানিতে মরদেহ ভাসতে দেখা গেছে। উদ্ধারযোগ্যদের উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুৎসা মুরমবেডজি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ ফেরিটির যাত্রার শুরুর একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। তিনি ফেরিতে থাকা যাত্রীদের সঠিক সংখ্যা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট এমারসন মানগাগওয়া এ ঘটনায় দুর্যোগের অবস্থা ঘোষণা করেছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড্যানিয়েল গারওয়ে জানিয়েছেন, উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে প্রয়োজনীয় সব সম্পদ কাজে লাগাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ সাব-অ্যাকুয়া ইউনিট এবং একটি ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। মন্ত্রী এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এখন পর্যন্ত ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

