বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে, কিন্তু বিতর্কের রেশ এখনো কাটেনি। এবার সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার কাছে পাঠানো তার একটি ব্যক্তিগত চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর আবারও ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলমুখে কোনো শট নিতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখেন। শেষ বাঁশির পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে ঘটনাটি তদন্তের আওতায় আনে ফিফা।
এমন হতাশাজনক পরাজয়ের পরও ইনফান্তিনো তার চিঠিতে আর্জেন্টিনা দলের প্রশংসা করেন। পরে সেই চিঠি আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে বলে জানায়।
চিঠিতে ইনফান্তিনো আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি লেখেন, দলটির পারফরম্যান্স, নতুন প্রতিভার উত্থান এবং টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের অবদান ২০২৬ বিশ্বকাপকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পাশাপাশি কোচ লিওনেল স্কালোনি, খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, চিকিৎসক দল এবং সমর্থকদের প্রতিও অভিনন্দন জানান তিনি।
ফিফা সভাপতি আরও উল্লেখ করেন, সাফল্যের পেছনে কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব, অঙ্গীকার এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাই মূল শক্তি। তার মতে, এসব গুণ ভবিষ্যতে আর্জেন্টাইন ফুটবলকে আরও বড় সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। চিঠির শেষাংশে তাপিয়ার জন্য শুভকামনা জানিয়ে দ্রুত আবার দেখা হওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
তবে চিঠিটি প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে। সমালোচকদের দাবি, পুরো বিশ্বকাপজুড়েই আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসিকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ফিফা সভাপতির ব্যক্তিগত প্রশংসাপত্র সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে বলে তাদের মত।
অবশ্য টুর্নামেন্ট চলাকালে ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছিলেন। এদিকে চিঠি ফাঁস হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ফিফা বা জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আর্জেন্টিনাকে ইনফান্তিনোর চিঠি, ফের বিতর্কের কেন্দ্রে ফিফা
