যুক্তরাষ্ট্রের গভর্নর নির্বাচনে এবার এক নতুন ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে অন্তত আটজন কৃষ্ণাঙ্গ প্রার্থী গভর্নর পদের জন্য লড়ছেন। মেরিল্যান্ডের বর্তমান গভর্নর ওয়েস মুর, যিনি নিজে একজন কৃষ্ণাঙ্গ, তিনি এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও দেশটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনজন কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। এই সংখ্যাটিকে তিনগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এই প্রার্থীরা।
জাতীয় গভর্নর অ্যাসোসিয়েশনের নতুন চেয়ার ওয়েস মুর বলেন, আড়াইশ বছরের ইতিহাসে মাত্র তিনজন কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর নির্বাচিত হওয়াটা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, তার নিজের রাজ্যে তিনি ছিলেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর। মুর ছাড়াও নেভাদার অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যারন ফোর্ড, উইসকনসিনের মিলওয়াকি কাউন্টি এক্সিকিউটিভ ডেভিড ক্রাউলি এবং জর্জিয়ার প্রাক্তন মেয়র কেইশা ল্যান্স বটমস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন।
রিপাবলিকান পার্টি থেকেও ইতিহাস গড়ার মতো প্রার্থী রয়েছেন। ফ্লোরিডায় প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য বায়রন ডোনাল্ডস এবং মিশিগানে জন জেমস গভর্নর পদের লড়াইয়ে আছেন। এছাড়া সাউথ ক্যারোলিনার স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ জার্মেইন জনসন এবং মিনেসোটার হাউস স্পিকার লিসা ডেমুথও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গ প্রার্থীদের সাফল্য তাদের রাজনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। অতীতে দেখা গেছে, কৃষ্ণাঙ্গ প্রার্থীরা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শক্তিশালী ঘাঁটিতে ভালো করলেও সাধারণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে হিমশিম খেয়েছেন। তবে ডেভিড ক্রাউলি ও কেইশা ল্যান্স বটমসের মতো প্রার্থীদের প্রধান নির্বাহী হিসেবে অভিজ্ঞতা থাকায় তারা অন্যদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারেন।
নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রার্থীরা বর্ণবাদী আক্রমণেরও শিকার হচ্ছেন। ফ্লোরিডার ডোনাল্ডস এবং নেভাদার ফোর্ডকে নিয়ে তাদের প্রতিপক্ষরা নানা বিতর্কিত মন্তব্য করছেন। তবে প্রার্থীরা এসব উপেক্ষা করে উন্নয়নের বার্তা ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের ওপর জোর দিচ্ছেন। উইসকনসিনের ডেভিড ক্রাউলি বলেন, আমার লক্ষ্য শুধু প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হওয়া নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের সামনে সুযোগের নতুন দুয়ার উন্মুক্ত করা।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায়ের ফলে ভোটাধিকার আইন দুর্বল হওয়ায় অনেক রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই চ্যালেঞ্জের মুখেও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। দক্ষিণ অঞ্চলের রাজ্যগুলোতে প্রাইমারি নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একটি নতুন রাজনৈতিক জাগরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
