ইউক্রেন সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখন রাশিয়া, ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার প্রক্রিয়াটি পুনরায় চালু করতে আগ্রহী।
রবিবার কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে উইটকফ এ কথা বলেন। তার সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন আরেক মার্কিন দূত জ্যারেড কুশনার। উইটকফ জানান, মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর তারা নতুন কিছু ধারণা নিয়ে কিয়েভে এসেছেন। তিনি বলেন, মস্কোতে আমরা অনেক অগ্রগতি সাধন করেছি এবং নতুন কিছু প্রস্তাব শুনেছি।
মার্কিন এই দূত আরও জানান, আলোচনার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করা হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাত নিরসনে উভয় পক্ষকেই কিছু ছাড় দিতে হবে এবং তাদের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে হবে। উইটকফ এবং কুশনারের মূল লক্ষ্য হলো দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসা এবং যোগাযোগের পথ সুগম করা। গত ৪৮ ঘণ্টার প্রচেষ্টাকে তিনি গঠনমূলক বলে অভিহিত করেছেন।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে উইটকফ বলেন, আমরা প্রথমে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছি কারণ তার অবস্থান জানা জরুরি ছিল। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ও তার দলকে সেই আলোচনার সারসংক্ষেপ জানানো হয়েছে। জ্যারেড কুশনার জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে এবং উইটকফকে একটি 'শান্তি প্যাকেজ' তৈরির দায়িত্ব দিয়েছেন, যার উদ্দেশ্য কেবল যুদ্ধ থামানো নয়, বরং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলো শিগগিরই আরেকটি বৈঠক করতে সম্মত হয়েছে, তবে এর স্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি। জেলেনস্কি স্পষ্ট করেন যে, ভূখণ্ড সংক্রান্ত মূল সমস্যাটি এখনো অমীমাংসিত এবং এই পর্যায়ের জটিল বিষয়গুলো কেবল রাষ্ট্রপ্রধানদের পর্যায়েই সমাধান করা সম্ভব।
জেলেনস্কি বর্তমানে শীতকালের আগে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না এবং সংঘাতটি শীতকাল পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। এছাড়া, তিনি জানান যে যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এবং ইউক্রেন আরও নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার আশা করছে।

