যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে আরও দ্রুত, তীব্র এবং ‘বেদনাদায়ক’ পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রবিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলেছেন, আমেরিকানদের "খুব দেরি হওয়ার আগেই" বুঝতে হবে যে "খেলার নিয়ম বদলে গেছে।"
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের এক সপ্তাহের মাথায় এই হুঁশিয়ারি এলো। এর আগের দিন ওয়াশিংটন জানায়, আঞ্চলিক জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজে তেহরানের হামলার জবাবে তারা ইরানি তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার ইরানি ট্যাংকারে চালানো এই হামলার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে।
এদিকে রবিবার ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টাকারী একটি মার্কিন রিমোট-কন্ট্রোলড ড্রোনে হামলা চালিয়েছে তাদের নৌবাহিনী। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, "ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।"
এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের প্রতি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছিলেন, "সহজ হিসাব: ইরান যদি মার্কিন জাহাজে গুলি চালায়, তবে আমরা তাদের তেল ট্যাংকার ধ্বংস (এবং ডুবিয়ে) দেব।" গত মাসে দুই পক্ষের মধ্যকার ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, গত রবিবার মার্কিন হামলার মাধ্যমে এই আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে যায়। এরপর পুরো সপ্তাহ জুড়ে চলে পাল্টা হামলা। মার্কিন বাহিনী ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং ইরানও সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া এই ছয় মাসব্যাপী যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে মন্তব্য করেছেন যে, এই নতুন সংঘাত "খুব বেশি দিন" স্থায়ী হবে না। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি বা কূটনৈতিক সমাধান দেখা যাচ্ছে না। বিশ্ব জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা ইরানের জন্য একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে। তেহরান এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালেও ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে প্রণালীটি "উন্মুক্ত" এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী দক্ষিণ রুট দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে।
এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন গ্রাহকদের ওপর যুদ্ধের এই আর্থিক প্রভাব নিয়ে চাপের মুখে রয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৫.৮৫ ডলার, যা এক বছর আগে ছিল ৩.৭১ ডলার। তবে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট রবিবার সিএনএনকে জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল এই প্রণালী দিয়ে পার হচ্ছে, যা সংকটপূর্ব সময়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি। তিনি এবিসি-র 'দিস উইক' অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, লেবার ডে-র পর গ্রীষ্মকালীন চাহিদা কমে আসলে আমেরিকানদের জন্য তেলের দাম কমতে শুরু করবে।

