গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে প্রায় ৬০ শিশুসহ ১০০ জন ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের শেষ বিদায় জানাতে এক গণকফনাজায় অংশ নেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসাবশেষের কাছে নিহতদের দেহাবশেষগুলো ফিলিস্তিনি পতাকায় মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল। গাজার সিভিল ডিফেন্স এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের শোকবার্তার পর মরদেহগুলো আল-আহলি কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহতরা মূলত রহিম, বালাউই, মালাকা, কানবুর এবং সালমি পরিবারের সদস্য ছিলেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আড়াই বছর আগে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের বাড়িঘর মাটির সাথে মিশে গিয়েছিল। ১৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা এই দেহাবশেষগুলো উদ্ধার করেন। গাজাজুড়ে এখনো হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাহমুদ মুর্তাজা নামে এক ব্যক্তি, যিনি এই ঘটনায় তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী কন্যাকে হারিয়েছেন, তিনি জানান, এই উদ্ধার প্রক্রিয়া তাদের পুরনো শোককে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে। তিনি বলেন, 'মনে হচ্ছে যেন গতকালই তাদের হত্যা করা হয়েছে। তারা চোখের সামনে থাকলেও তাদের আলিঙ্গন করার উপায় নেই, কেবল হাড় আর মাথার খুলি অবশিষ্ট রয়েছে।'
এটি ফিলিস্তিনের ইতিহাসের অন্যতম বড় জানাজা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে আগস্ট মাসে সাবরা এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া ১১২ জনের জন্যও একই ধরনের শেষ বিদায় জানানো হয়েছিল। বর্তমানে এই উদ্ধার অভিযানের দ্বিতীয় ধাপটি ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থান জুড়ে ৮০০ ঘণ্টা ধরে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে প্রায় ১,০৭২টি মৃতদেহ এখনো আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। অক্টোবর ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরায়েল ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা থাকলেও, উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো সীমিত সম্পদের ওপর নির্ভর করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

