রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেন্ট পিটার্সবার্গে অবস্থিত জার্মান কনস্যুলেট বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জার্মান কনস্যুলেটকে তাদের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এর কর্মীদের রাশিয়া ত্যাগ করতে হবে। এর পাশাপাশি মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে অবস্থিত জার্মান গ্যোটে-ইনস্টিটিউটের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো বন্ধের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্তটিও পুনর্ব্যক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। এই কেন্দ্রগুলোর কর্মীদের আগামী রবিবারের মধ্যে রাশিয়া ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মস্কোর এই কঠোর পদক্ষেপকে মূলত গত বুধবার জার্মানির নেওয়া একটি সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। জার্মানি সে সময় বন শহরে রাশিয়ার কনস্যুলেট এবং বার্লিনে অবস্থিত রুশ হাউস সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। জার্মানির দাবি, গত ৪ আগস্ট লিপজিগ/হালে বিমানবন্দরে একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন পাওয়া গিয়েছিল, যা একটি ইউক্রেনীয় বিমানের কাছে ছিল। জার্মান কর্তৃপক্ষের মতে, এই ড্রোন হামলার চেষ্টার পেছনে রাশিয়ার দায় রয়েছে। লিপজিগ বিমানবন্দরটি ইউক্রেনকে সহায়তা প্রদানের জন্য একটি বড় আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে ড্রোনটি পরে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছিল।
মস্কো অবশ্য এই ড্রোন হামলার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ঘটনাটিকে একটি উস্কানি হিসেবে বর্ণনা করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির জন্য জার্মান কর্তৃপক্ষই দায়ী এবং এর সব দায়ভার তাদের ওপরই বর্তায়।
অন্যদিকে, পশ্চিমা দেশগুলোর কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ করে আসছেন যে, রাশিয়া ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন দুর্বল করতে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোতে অস্থিতিশীলতা তৈরিসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। যদিও মস্কো বরাবরই এসব পশ্চিমা অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।

