শিশু নিরাপত্তা কর্মী এলিজাবেথ স্মার্ট বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়ার পর নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর, শনিবার ইনস্টাগ্রামে তিনি এই প্রতিযোগিতার ফলাফল ও নিজের অনুভূতির কথা শেয়ার করেন। ৩৮ বছর বয়সী স্মার্ট গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিটসবার্গে আয়োজিত ন্যাশনাল ফিজিক কমিটির নর্থ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছিলেন।
নীল বিকিনি ও হাই হিল পরিহিত অবস্থায় মঞ্চে পোজ দেওয়ার একটি ভিডিও পোস্ট করে স্মার্ট লিখেছেন, “আরও একটি শো শেষ হলো! খুব আনন্দ পেয়েছি। আমি সবসময় বলে এসেছি যে মঞ্চে উঠতে পারাটাই আমার জন্য জয়। আমি সেই অবস্থানেই অটল আছি।”
স্মার্ট জানিয়েছেন যে তিনি দুটি বিভাগে অংশ নিয়েছিলেন—৩৫ বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ‘মাস্টারস ৩৫+’ এবং উচ্চতাভিত্তিক ‘ওপেন ক্লাস ডি’। তিনি জানান, দুটি বিভাগেই তিনি তালিকার শেষ দিকে অবস্থান করেছেন। তবে প্রতিযোগিতায় নিজের অবস্থান নিয়ে হতাশ নন তিনি। এর পরিবর্তে, পুরো অভিজ্ঞতাটিকে তিনি উপভোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি তার কোচ রবিন মাহের এবং তার বন্ধু ম্যাকেঞ্জি পারালি হোলসোনবেকের প্রশংসা করেছেন।
স্মার্ট আরও লিখেছেন, আগের প্রতিযোগিতাগুলোর তুলনায় এবার তিনি আরও উন্নত শারীরিক গঠন ও মঞ্চে আত্মবিশ্বাস নিয়ে হাজির হতে পেরেছিলেন। তিনি নিজের কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং সাহসিকতার জন্য গর্ববোধ করেন। এর আগে এপ্রিলে সল্টলেক সিটির ‘ওয়াসাচ ওয়ারিয়র’ প্রতিযোগিতার ‘ফিট মডেল নভিস’ বিভাগে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। এবারের প্রতিযোগিতাটি ছিল তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বডিবিল্ডিং ইভেন্ট।
নিজের এই নতুন যাত্রার বিষয়ে তিনি জানান, ম্যারাথনে দৌড়ানোর সময় হাঁটুতে ব্যথা শুরু হলে এক প্রশিক্ষকের পরামর্শে তিনি বডিবিল্ডিং শুরু করেন। সিবিএস মর্নিংস-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রথমদিকে মঞ্চে বিকিনি পরে উঠতে তার খুব ভয় ও অস্বস্তি হয়েছিল। তবে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর নিজের শরীরের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের একটি মাধ্যম হিসেবে তিনি এই খেলাটিকে বেছে নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, তার শরীর তাকে সব কঠিন সময়ে বহন করে নিয়ে এসেছে, তাই এই শরীরচর্চা তার শরীরের প্রতি এক ধরনের উদযাপন।
স্মার্টের অপহরণের ঘটনাটি আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত একটি ঘটনা। ২০০২ সালের জুন মাসে ১৪ বছর বয়সে সল্টলেক সিটির নিজ বাড়ি থেকে তিনি অপহৃত হন। নয় মাস বন্দি থাকার সময় ব্রায়ান ডেভিড মিচেল নামক এক ব্যক্তি তাকে যৌন নির্যাতন করেন। মিচেল এবং তার তৎকালীন স্ত্রী ও সহযোগী ওয়ান্ডা বারজিকে ঘটনার পরপরই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গ্রেপ্তার করে।
