জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাবস্টেশনগুলোতে ধারাবাহিক নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম 'ডের স্পিগেল' জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিটির নাম ড্যানিয়েল ভি.। বেশ কয়েক দিন ধরে খোঁজাখুঁজির পর আখেন শহরের কাছে ভাইসভাইলার এলাকায় একটি গাড়ি তল্লাশির সময় তাকে আটক করে পুলিশ। গত সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ ভাইসভাইলার বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে বেশ কয়েকটি হাতে তৈরি নিক্ষেপ যন্ত্র বা ডিভাইস উদ্ধার করে। এই ডিভাইসগুলো উচ্চ-ভোল্টেজ লাইনের ওপর দিয়ে পাতলা তার ছুঁড়ে মারার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যা শর্ট সার্কিট ঘটাতে সক্ষম।
গত সপ্তাহে ব্র্যান্ডেনবার্গ, নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া এবং স্যাক্সনি অঞ্চলেও একই ধরনের ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছিল। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর পূর্ব জার্মানির ইয়ানশভাল্ডে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাবস্টেশন এবং কোলন শহরের পশ্চিমে বার্গহাইমের কাছাকাছি বিদ্যুৎ সাবস্টেশনে প্রথম হামলার ঘটনা ঘটেছিল। জার্মান গণমাধ্যমে দায় স্বীকার করে চিঠি পাঠানোর পর তদন্তকারীরা ড্যানিয়েল ভি.-এর ওপর নজর দিতে শুরু করেন। চিঠিতে প্রেরক হিসেবে তার পুরো নাম লেখা ছিল।
গণমাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে লেখক দাবি করেছেন যে তিনি একাই এই কাজ করেছেন এবং এর সঙ্গে কোনো বামপন্থী দল বা কর্মীর সম্পর্ক নেই। তিনি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে ‘অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য গণমাধ্যম ও সরকারকে অভিযুক্ত করেছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “আমি দেশের ওপর হামলা করছি না, বরং জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের ওপর হামলা করছি।”
চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিটগুলো বন্ধ হয়ে গেলেও কোনো বিদ্যুৎ বিভ্রাট না হওয়ায় তিনি আনন্দিত। অন্য একটি অংশে তিনি বলেন, জার্মানির অস্ত্র শিল্পে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলে তিনি দুঃখিত হবেন না, বিশেষ করে যখন জার্মানি ফিলিস্তিনে ‘গণহত্যা’ সমর্থন করছে। তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিই এই চিঠিগুলো লিখেছেন কি না বা তার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য কী, সে সম্পর্কে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

