রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ইউরোপের প্রতি রাশিয়ার কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই। ইউক্রেন সংকট নিরসনের উপায় নিয়ে দুই নেতার মধ্যে এক ঘণ্টা স্থায়ী এক ফোনালাপে এই বিষয়টি উঠে আসে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আলোচনাটি অত্যন্ত খোলামেলা ও গঠনমূলক ছিল।
রুশ প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ফোনালাপটি ছিল কঠোরভাবে গোপনীয়। আলোচনার এক পর্যায়ে পুতিন স্পষ্টভাবে জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার কোনো ধরনের আগ্রাসী পরিকল্পনা নেই।
ফোনালাপে দুই নেতা মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সাম্প্রতিক মস্কো ও কিয়েভ সফর নিয়েও মতবিনিময় করেন। এই সফরগুলো নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে উশাকভ জানান। উল্লেখ্য, উইটকফ এবং কুশনার শনিবার মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে এবং পরদিন কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তবে এই আলোচনা থেকে কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি।
উশাকভ আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন সংঘাত দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক পুনরায় ব্যাপকভাবে শুরু হতে পারে। পুতিন ট্রাম্পকে যুদ্ধের ময়দানের পরিস্থিতির একটি বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরেছেন এবং সংঘাত দ্রুত অবসানের জন্য ওয়াশিংটন কী ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এছাড়া দুই নেতা মানবিক ইস্যু, বিশেষ করে বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে কাজ চালিয়ে যেতে এবং নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন। আলোচনায় ইউরোপে রাশিয়ার হুমকি সংক্রান্ত যে বয়ান প্রচলিত রয়েছে, তা নিয়েও কথা হয়েছে। উশাকভ দাবি করেন, ইউক্রেনকে সহায়তা এবং ইউরোপের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্যই মূলত এই ধরনের বয়ান ব্যবহার করা হচ্ছে।

