ঐতিহাসিক লনি বাঞ্চ স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের সেক্রেটারি পদ থেকে বছরের শেষ নাগাদ সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দীর্ঘ ৩৮ বছর এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকার পর এখন বিদায় নেওয়ার সময় হয়েছে।
৭৩ বছর বয়সী লনি বাঞ্চ স্মিথসোনিয়ানের ১৭৩ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১৬ সালে স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ আফ্রিকান আমেরিকান হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন এবং ২০১৯ সালে সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাঞ্চ জানান, তার এই অবসরের সিদ্ধান্তটি কোনো চাপের কারণে নয়, বরং এটিই এখন সঠিক সময়। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পরিস্থিতির কারণে তিনি বেশ মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। তিনি বলেন, এক পর্যায়ে তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে আর মোবাইল ফোনের দিকে তাকাতে চান না।
২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকেই স্মিথসোনিয়ানের বিরুদ্ধে সমালোচনা তীব্রতর হয়। ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন জাদুঘর নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শুরু করে এবং মার্চ মাসে ‘অনুপযুক্ত মতাদর্শ’ অপসারণের নির্দেশ দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। জুলাই মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ আমেরিকান হিস্ট্রির বাইরে ‘ভুল’ ইতিহাস সংশোধনের জন্য সাইনবোর্ড বসানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাগ বার্গাম গত সপ্তাহে এক চিঠিতে স্মিথসোনিয়ানের নেতৃত্বের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, তারা একটি ‘উগ্র প্রাতিষ্ঠানিক মতাদর্শ’ প্রচার করছে যা আমেরিকান পরিচয়কে দুর্বল করছে এবং ঐতিহ্যকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।
স্মিথসোনিয়ানের বোর্ড অফ রিজেন্টসের সদস্য এবং প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বাঞ্চের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, বাঞ্চ আমাদের জাতির ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিয়েছেন এবং তার প্রস্থান পরবর্তীতে একটি সুষ্ঠু পরিবর্তনের জন্য তারা কাজ করবেন।
স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশন বর্তমানে ২১টি জাদুঘর, ২০টি লাইব্রেরি, একাধিক গবেষণা কেন্দ্র এবং ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল চিড়িয়াখানা পরিচালনা করে। ২০১৯ সালে সিবিএস ‘সানডে মর্নিং’-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে বাঞ্চ বলেছিলেন, সংস্কৃতি মানুষকে বিভাজিত করার পরিবর্তে ঐক্যবদ্ধ রাখে এবং স্মিথসোনিয়ান সেই ঐক্যেরই একটি অংশ।

