প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২: ১৯। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের দুই সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বদলি করা হয়েছে। অফিসে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করার অভিযোগে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন এই বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বদলি হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবযানী কর এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমা। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানিয়েছেন, দেবযানী করকে নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে এবং অংমাচিং মারমাকে অফিসে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের ঘটনায় বদলি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৩১ আগস্ট, যখন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আকস্মিকভাবে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। অথচ তাদের অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ওই দিনের হাজিরা খাতায় আগের দিনই স্বাক্ষর করা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের মোট ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া অনুপস্থিত থাকা বা বিলম্বে আসা সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর লঙ্ঘন এবং অফিসে না এসে আগাম স্বাক্ষর করা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ‘খ’ ধারার আওতায় গর্হিত অপরাধ।
সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামানসহ আরও বেশ কয়েকজন রয়েছেন। এদিকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের বেশি একই কর্মস্থলে থাকা কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং বিধি অনুযায়ী তাদের বিষয়েও পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

