কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য একটি প্রচেষ্টা শনাক্ত ও নস্যাৎ করার দাবি করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের তৈরি এআই মডেল 'ক্লড' (Claude) ব্যবহার করে এই ক্ষতিকর কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
অ্যানথ্রোপিকের এই সতর্কবার্তার পর উন্নত এআই প্রযুক্তির বিকাশ সাময়িকভাবে স্থগিত করার এবং 'আর্টিফিশিয়াল সুপারইন্টেলিজেন্স' বা অতি-বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এআই নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তবে এই ধরনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার তিনি মন্তব্য করেন, "আমরা যদি এআই-এর লড়াইয়ে জয়ী হতে না পারি, তবে আমরা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়ে যাব।"
এআই মডেলগুলোর অপব্যবহার রোধে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং এটি এখন এই খাতের একটি সাধারণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার গুগলও অনুরূপ একটি ঘটনা প্রকাশ করে। তারা জানায়, এক ব্যক্তি গুগলের এআই টুল 'জেমিনি' (Gemini) ব্যবহার করে প্রাণঘাতী জৈব উপাদান তৈরির ধাপে ধাপে নির্দেশিকা পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। এছাড়া অ্যানথ্রোপিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি চক্র এবং ইরানের একটি প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরাও তাদের ক্লড মডেলটি ব্যবহারের চেষ্টা করেছে।
অ্যানথ্রোপিক জানায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্টের মধ্যে তাদের ক্লড হাইকু (Haiku), সনেট (Sonnet) এবং ওপাস (Opus) মডেলগুলোর অপব্যবহার রুখে দেওয়া হয়েছে। তবে ক্লড ফেবল (Fable) বা শক্তিশালী মিথোস-ক্লাস (Mythos-class) মডেলগুলোর ক্ষেত্রে অপব্যবহারের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কেবল একটি ক্ষেত্রে 'ডিসটিলেশন' বা বড় এআই মডেল ব্যবহার করে ছোট মডেল প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়ায় এগুলোর ব্যবহারের চেষ্টা দেখা গেছে। গত আট মাসে ভুয়া ডেটিং অ্যাপ তৈরি, হোটেলের ওয়াইফাই জালিয়াতি থেকে শুরু করে ভিন্নমতাবলম্বীদের শনাক্ত করার নজরদারি প্রযুক্তির মতো বিভিন্ন ক্ষতিকর কাজে এআই ব্যবহারের চেষ্টা শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া চীনা এআই প্রতিষ্ঠানগুলো ক্লডের সক্ষমতা নকল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছে অ্যানথ্রোপিক।
সাইবার হামলা, নজরদারি, জালিয়াতি ও অপপ্রচার রুখে দেওয়ার পাশাপাশি অ্যানথ্রোপিক এমন কিছু বিজ্ঞানীকেও ব্লক বা নিষিদ্ধ করেছে, যারা জৈব অস্ত্র তৈরিতে সহায়ক হতে পারে এমন উপায়ে তাদের এআই ব্যবহার করছিলেন। প্রতিবেদনে এমন পাঁচটি ঘটনার কেস স্টাডি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে বলেছে, ফ্রন্টিয়ার এআই মডেলগুলোর অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো এর জৈবিক অপব্যবহার। সঠিক সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তবে অ্যানথ্রোপিক আরও উল্লেখ করেছে, "যে তথ্য দিয়ে জৈব অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব, সেই একই তথ্য দিয়ে কোনো রোগের প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিনও তৈরি করা যায়।"
বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল উল্লেখ করে অ্যানথ্রোপিকের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স বিভাগের প্রধান জ্যাকব ক্লেইন নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, "পরিস্থিতিটি খুবই সূক্ষ্ম। এখানে কমিক বইয়ের খলনায়কদের মতো কেউ এসে সরাসরি বলছে না যে, 'আমি সবাইকে মেরে ফেলার জন্য জৈব অস্ত্র তৈরি করতে চাই।'" এছাড়া প্রতিবেদনে আরও ছয়টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আগ্নেয়াস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র, সশস্ত্র ড্রোন, বোমা ও অন্যান্য গোলাবারুদসহ প্রথাগত অস্ত্র তৈরির সফটওয়্যার এবং সেগুলো পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরিতে ক্লড এআই মডেলটি ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছিল।

