প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ১০ (12 September 2026, 03:10)
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ এক নবজাতককে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা নবজাতকটিকে উদ্ধার করার পাশাপাশি এক কিশোরী ও অটোরিকশাচালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। গত শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চলন্ত অটোরিকশা থেকে এক নবজাতককে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে যান এবং তাকে উদ্ধার করেন। পরে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নবজাতকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তার মায়ের সঙ্গে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিনের ছেলে মো. সালাউদ্দিন ওরফে আরমানের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা গোপনে আদালতে গিয়ে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি সালাউদ্দিনকে জানালে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিয়ের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন।
এমতাবস্থায়, গত শুক্রবার দুপুরে ওই কিশোরী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যেই অটোরিকশার ভেতরেই তিনি সন্তান প্রসব করেন। এরপর হাসপাতালে ভর্তির জন্য জরুরি বিভাগে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকদের সন্দেহ বুঝতে পেরে ওই কিশোরী নবজাতকটিকে হাসপাতালের সামনের সড়কের পাশে ফেলে রেখে অটোরিকশায় করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে অটোরিকশাচালক ও ওই কিশোরীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মো. সালাউদ্দিন ওরফে আরমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নবজাতক ও তার মাকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, পুলিশ পুরো ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছে এবং এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

