ইউরোপীয় পার্লামেন্টে কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম সহযোগী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবটি বেশ উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছে। বৃহস্পতিবার এই প্রস্তাবের সমর্থনে বক্তব্য রাখার সময় মার্ক কার্নিকে ঘিরে পার্লামেন্ট সদস্যদের ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। অনেক রাজনীতিবিদ তার সঙ্গে করমর্দন করতে এবং সেলফি তুলতে ভিড় করেন। জার্মান গ্রিন এমইপি টেরি রেইনকে এই মুহূর্তকে ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেন এবং কানাডার আইস হকি জার্সি পরে সংহতি জানান। তিনি বলেন, ইউরোপ হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এবং কানাডা তা গ্রহণ করেছে।
এর আগের দিন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন এই অভূতপূর্ব আমন্ত্রণটি জানান। তবে এই উদ্যোগের কথা শোনা মাত্রই ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে ইউরোপকে কঠোর শুল্কের মুখে পড়তে হবে।
এদিকে ইইউ কূটনীতিকদের মধ্যে এই প্রস্তাব নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, ভন ডের লেয়েন এই প্রস্তাবটি তুলে ধরে কিছুটা বেশিই আগ বাড়িয়ে ফেলেছেন বলে মনে হচ্ছে। এমনকি বুধবারের ভাষণের আগেও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ছিল যে, তিনি কানাডার বিষয়ে অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফেলছেন। দ্বিতীয় একজন কূটনীতিক এটিকে কেবল একটি ফাঁকা বুলি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এর মূল বিষয়বস্তু নির্ধারণ করার দায়িত্ব সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপরই নির্ভর করবে। কোনো বিদেশি দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য ও সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ইইউর ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের অনুমোদন প্রয়োজন।
উভয় পক্ষই এআই, জ্বালানি নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং আর্কটিক অঞ্চলে সহযোগিতার বিষয়ে একমত। বিশেষ করে আর্কটিক সমুদ্রসীমা নিয়ে কানাডা ও ডেনমার্কের (গ্রিনল্যান্ডের মাধ্যমে) অভিন্ন স্বার্থের কথা উল্লেখ করেছেন কার্নি।
তবে কিছু জটিলতা এখনো আলোচনার বাইরে রয়ে গেছে। কার্নি ২০১৬ সালের ইইউ-কানাডা কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্টকে বিশ্বের অন্যতম সফল বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে অভিহিত করলেও, ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডসহ ১০টি ইইউ সদস্য দেশ এখনো এটি অনুমোদন করেনি। আগামী বছর এই দেশগুলোতে নির্বাচন থাকায় পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ।
এছাড়া উভয় পক্ষই বাণিজ্যের কথা বললেও বিপরীতমুখী নীতি অনুসরণ করছে। গত বছর কানাডা 'বাই কানাডিয়ান' নীতি চালু করেছে, যাতে সরকারি চুক্তিতে কানাডিয়ান সরবরাহকারীরা অগ্রাধিকার পায়। অন্যদিকে ইইউ 'ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সিলারেটর অ্যাক্ট' বা 'বাই ইউরোপিয়ান' আইন নিয়ে বিতর্ক করছে, যা সবুজ প্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিক গাড়িতে সরকারি ব্যয় করার সময় ইউরোপীয় কন্টেন্টের বাধ্যবাধকতা আরোপ করবে। সব মিলিয়ে, এই ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যেও বেশ কিছু জটিল ইস্যু সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে।

