সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের সামরিক বাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুটি এমকিউ-১ (MQ-1) ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মার্কিন কর্মকর্তারা। নিরাপত্তার খাতিরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে ঠিক কোথায় ড্রোনগুলো ভূপাতিত হয়েছে কিংবা এগুলো এমকিউ-১ সিরিজের কোন ধরনের এয়ারক্রাফট ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী মূলত দুটি প্রধান এমকিউ-১ সংস্করণ ব্যবহার করে থাকে—প্রেডেটর এবং গ্রে ঈগল। প্রেডেটর ড্রোনগুলো ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, যা ২০১৮ সালে বিমান বাহিনী অবসরে পাঠায়। অন্যদিকে, গ্রে ঈগল ড্রোনগুলো আকারে বড় এবং বর্তমানে মার্কিন সেনাবাহিনী ও তাদের বিশেষ অভিযান শাখা এগুলো পরিচালনা করে থাকে।
এই ড্রোনগুলো মূলত গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হয়, তবে প্রয়োজনে এগুলো হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র বহন ও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এই ড্রোনগুলো মার্কিন বাহিনীকে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
আর্থিক ক্ষতির হিসাব অনুযায়ী, বিমান বাহিনীর পুরনো এমকিউ-১ প্রেডেটর ড্রোনগুলো হারিয়ে গেলে তার মোট মূল্য প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলারের মতো হয়। তবে গ্রে ঈগল ড্রোনগুলো বেশ ব্যয়বহুল এবং এগুলোর একেকটির দাম লক্ষাধিক থেকে কয়েক কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের এই সপ্তাহের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সাথে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭২০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া একটি এমকিউ-৪সি ট্রিটন ড্রোন ধ্বংস হওয়ার ফলে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
September 17, 2026 / 1:04 PM EDT / CBS News

