জার্মানির দুটি রাজ্যে রবিবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনকে চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জের নেতৃত্বের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটিতে চরম ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ বা এএফডি-র ক্রমবর্ধমান প্রভাব মার্জের সরকার পরিচালনা ও সংস্কার কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেকলেনবার্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়া এবং রাজধানী বার্লিনে। মেকলেনবার্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়া মূলত একটি গ্রামীণ অঞ্চল, যা একসময় কমিউনিস্ট শাসিত পূর্ব জার্মানির কম সমৃদ্ধ অংশ ছিল। এর দুই সপ্তাহ আগেই স্যাক্সোনি-আনহাল্ট রাজ্যে এএফডি বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো আঞ্চলিক সরকার গঠনের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে দলটি। অভিবাসনবিরোধী এবং রাশিয়া-পন্থী হিসেবে পরিচিত এএফডি-র এই উত্থান অনেক জার্মান নাগরিকের জন্য বিস্ময়ের কারণ হয়েছে, যারা বিশ্বাস করতেন নাৎসি অতীতের ভয়াবহতার পর দেশটিতে জাতীয়তাবাদ ও জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে না।
গত ৬ সেপ্টেম্বর স্যাক্সোনি-আনহাল্টের নির্বাচনে পরাজয় চ্যান্সেলর মার্জের কর্তৃত্বকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই ফলাফলের পর খোদ তাঁর নিজের দল থেকেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে, যদিও কোনো শীর্ষস্থানীয় মিত্র প্রকাশ্যে তাঁর পদত্যাগের আহ্বান জানাননি। অনেকে বিষয়টিকে ‘পার্সোনেল ডিবেট’ বা ব্যক্তিগত বিতর্ক হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
রবিবারের এই নির্বাচনে এএফডি বড় ধরনের সাফল্যের আশা করছে। তবে বার্লিনে তাদের সরকার গঠনের কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই এবং মেকলেনবার্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়াতে তাদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে শক্তিশালী এক কেন্দ্র-বাম গভর্নরকে। এদিকে, মার্জের নেতৃত্বাধীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) অবস্থা বেশ নাজুক। তারা বার্লিনের মেয়র পদটি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মেকলেনবার্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়াতে দলটি যদি ৫ শতাংশের কম ভোট পায়, তবে প্রথমবারের মতো কোনো রাজ্যের আইনসভায় তাদের কোনো আসন না থাকার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
৭০ বছর বয়সী ফ্রেডরিখ মার্জ ১৬ মাস আগে ক্ষমতায় আসার সময় জার্মান অর্থনীতিকে গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে প্রবৃদ্ধির অভাব এবং মার্জের নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে এক ধরনের অসন্তোষ বিরাজ করছে। নির্বাচনের পরের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্জ আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি বারবার জানিয়েছেন যে, তিনি তাঁর মেয়াদ শেষ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

