ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের পর রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে চরম উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার মধ্যরাতে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার সময় ঢাকার বেশ কয়েকটি পেট্রল পাম্পে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা, এমনকি হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু কিছু পাম্পে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে সব ধরনের জ্বালানির দাম একযোগে এতোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার রাত ১২টার পর রাজধানীর হাজীপাড়া পেট্রল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা একদল ক্ষুব্ধ যুবক পাম্পের কর্মচারীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করছেন। রামপুরার বাসিন্দা খোকন নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির খবর পান। আগের দামে কিছু অকটেন কিনে রাখার আশায় রাত ১১টার কিছু পরে তিনি হাজীপাড়া পাম্পে আসেন। কিন্তু সেখানে এসে দেখেন তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। খোকনের অভিযোগ, আগের দামে তেল বিক্রি না করে রাত ১২টার পর বাড়তি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যেই পাম্প কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল, যা গ্রাহকদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।
তবে গ্রাহকদের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাম্পের কর্মচারী বাবুল। তিনি দাবি করেন, রাত ১২টা পর্যন্ত তারা আগের নির্ধারিত দামেই তেল বিক্রি করেছেন। এরপর মেশিনে নতুন মূল্য সেটআপ বা নির্ধারণের কাজের জন্য সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বাবুল বলেন, দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের কোনো ভূমিকা নেই; তারা কেবল সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত ও নতুন প্রজ্ঞাপন কার্যকর করছেন।
রোববার রাতে সরকারের পক্ষ থেকে হঠাৎ করেই সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়, যা সোমবারের প্রথম প্রহর থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল এখন ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর আগে রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল।
জ্বালানি তেলের দামের এই দফায় বৃদ্ধির পূর্বে, গত ১৯ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছিল। সে সময় কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা, পেট্রলের দাম ১৯ টাকা এবং অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে জুন মাসে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারে আরও ৫ টাকা করে বৃদ্ধি পায়। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে।
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ৩৬আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ৩৯

