মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে এক ফোনালাপে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করার জন্য কিয়েভকে আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার অনুষ্ঠিত এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম।
আলোচনায় উপস্থিত ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার 'ডিজেল' শব্দটির ওপর জোর দিয়ে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীকে রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা বন্ধ করতে চাপ দেন। দ্বিতীয় এক জ্যেষ্ঠ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রাম্প ডিজেলের উচ্চমূল্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি তার প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে গ্যালন প্রতি গড় পেট্রোলের দাম ৪.৪৮ ডলার, যা এক মাস আগের ৪.১১ ডলারের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি এবং এক বছর আগের ৩.১৯ ডলারের তুলনায় ৪০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্প পরবর্তীতে তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ লিখেছেন, যুদ্ধের কারণে রাশিয়া তাদের ডিজেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং অনেক শোধনাগার ধ্বংস হয়ে অকেজো হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ অবশ্যই শেষ করতে হবে, কারণ প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে এবং পুরো বিশ্ব এর ফলে কষ্ট পাচ্ছে।
এই ফোনালাপ বা ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন নিয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জেলেনস্কি টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে জানান, ট্রাম্পের সাথে তার আলোচনাটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, 'আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কথা বলেছি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছিল এবং অনেক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় একটি সশরীরে বৈঠকের আয়োজন করেছি এবং এই বৈঠক অনেক কিছু পরিবর্তন করতে পারে।'
ট্রাম্প এর আগেও প্রকাশ্যে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার দাবি, শোধনাগারগুলোতে হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে ডিজেলের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে এবং এটি বিশ্ব অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ট্রাম্প বারবার মার্কিন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানির উচ্চমূল্যের জন্য কিয়েভের শোধনাগার অভিযানের ওপর দায় চাপিয়েছেন। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি দাবি করেছিলেন যে ওয়াশিংটন মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে একটি জ্বালানি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যস্থতা করেছে, যদিও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা পরে জানান যে এটি চূড়ান্ত কোনো চুক্তি ছিল না বরং একটি প্রাথমিক মার্কিন প্রস্তাব মাত্র।

