ব্রাজিলের বাহিয়া রাজ্যের রাজধানী সালভাদরে সম্প্রতি এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রাজ্যে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার চিত্র তুলে ধরেছে। এই ঘটনা এবং এর চারপাশের প্রশ্নগুলো অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার জন্য সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে এই রাজ্যে লুলা ৭২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমান সহিংসতা ও সরকারি পদক্ষেপের সমালোচনা তার এই শক্তিশালী ঘাঁটিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজ্যের ১১ মিলিয়ন বাসিন্দার সমর্থন ধরে রাখা লুলার জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে জননিরাপত্তার অভাবের কারণে গত চার বছরের তুলনায় বাহিয়াতে লুলার জনপ্রিয়তা কিছুটা কমতির দিকে। লুলার নির্বাচনী প্রচারণা দল অবশ্য তাদের সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পগুলোর ওপর আস্থা রাখছে।
সালভাদরে নিহত জুনিয়র নামক এক ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে তার পরিবার ও পুলিশের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। পুলিশ তাকে গ্যাং সদস্য সন্দেহে গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত দাবি করলেও, তার বোন ম্যাগনোলিয়া নাসিমেন্তো জানান, জুনিয়র গ্যাংয়ের সাথে জড়িত ছিলেন না, বরং পুলিশের অভিযানে তিনি নিরপরাধ অবস্থায় নিহত হয়েছেন। নাসিমেন্তো বলেন, তিনি পুলিশের কাছে সুরক্ষিত বোধ করেন না।
ব্রাজিলিয়ান পাবলিক সিকিউরিটি ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, বাহিয়া বর্তমানে দেশের অন্যতম সহিংস রাজ্য। সালভাদর দেশের সবচেয়ে মারাত্মক রাজধানী, যেখানে প্রতি ১ লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ৫৩ জন ভায়োলেন্ট ডেথ বা সহিংস মৃত্যুর শিকার হন। অনেকে এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্যে ২০০৬ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ওয়ার্কার্স পার্টিকে দায়ী করছেন।
লুলা পুনরায় নির্বাচিত হলে জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় গঠন এবং সহিংসতা দমনে ফেডারেল সম্পদ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে, সিনেটর বলসোনারো অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান এবং এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে মডেলের আদলে বড় কারাগার নির্মাণের প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে লুলা বাহিয়ার সহিংসতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা হলে তা অন্যায্য বলে মন্তব্য করেছেন।
রাজ্যের দরিদ্র এলাকাগুলোতে রিও ডি জেনিরোর 'রেড কমান্ড' এবং স্থানীয় 'বান্দো দে মালুকোস' গ্যাংয়ের আধিপত্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক রপ্তানির জন্য কৌশলগত রুট হয়ে ওঠায় এই রাজ্যগুলো অপরাধী চক্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। লুলার সরকার বলসোফা ফামিলিয়ার মতো সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ালেও, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কমছে না।
কিছু ভোটার লুলার ওপর আস্থা রাখলেও, অনেকেই নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সংশয় প্রকাশ করছেন। তবে লুলার অনেক সমর্থক এখনো মনে করেন, সহিংসতা বাড়লেও তার সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোই তাকে পুনরায় বিজয়ী করতে সাহায্য করবে।

