লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এক ভাষণে দেশটিতে অবস্থানরত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন, ইউএনআইএফআইএল (UNIFIL) প্রত্যাহারের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য শূন্যতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি এই মিশন প্রত্যাহার করতেই হয়, তবে তার বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতির বিষয়ে আগে থেকেই ঐকমত্য হওয়া প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গত মাসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ১৯৭৮ সাল থেকে দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন থাকা এই শান্তিরক্ষা মিশনের ম্যান্ডেট ডিসেম্বরে শেষ হবে। বর্তমানে প্রায় ৫০টি দেশের ৭,৫০০ জন শান্তিরক্ষী এই মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে অঘোষিত সীমান্ত হিসেবে পরিচিত ১২০ কিলোমিটার (৭৫ মাইল) দীর্ঘ 'ব্লু লাইন' বরাবর তারা নিয়োজিত রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী সালাম তার বক্তব্যে ইসরায়েলকে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব সুসংহত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে দেশের সমস্ত অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র রাষ্ট্রের হাতে থাকে। তবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এখন পর্যন্ত নিরস্ত্রীকরণের বিরোধিতা করে আসছে।
এর আগে গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও লেবাননের মধ্যস্থতায় একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তিতে ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সেই চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বর্তমানে থমকে আছে। মূলত ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের আগ্রাসন বন্ধ এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

