জাতিসংঘে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা হলে সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিয়ে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তিনি জানান, এই পরিকল্পনাটি কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ওয়াশিংটনের। আরাকচি আরও বলেন, ইরান যে পদক্ষেপগুলো আশা করছে তা নতুন কিছু নয়, বরং জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ-এর মধ্যেই সেসব শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত এই ১৪ দফার চুক্তিতে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী আংশিক খুলে দেওয়ার রূপরেখা ছিল। চুক্তিতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টিও এতে ছিল। তবে উভয় পক্ষ পুনরায় হামলা শুরু করলে সেই চুক্তি ভেঙে যায়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলে যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে এবং সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান এখন জাতিসংঘকে তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শনের অনুমতি দিতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।
এদিকে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান বেশ কঠোর। এক মার্কিন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র সুবিধাজনক অবস্থানে আছে এবং তারা এই বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করছে না। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইরানের এই প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং তার কর্মীদের জানিয়েছেন যে, তিনি পুনরায় বোমা হামলার সম্ভাবনা দেখছেন।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করে এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে দেয়। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার ফলে এর বন্ধ থাকা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতা তৈরি করেছে। শিপিং ডেটা বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রণালী দিয়ে দৈনিক গড়ে ১৮টি জাহাজ চলাচল করছে, যদিও কোনো কোনো দিন এই সংখ্যা নয়টিতে নেমে আসে।
এর মধ্যেই ইয়েমেনের হুথিরা লোহিত সাগরের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে আক্রমণ জোরদার করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সৌদি আরবের দিকে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমে খবর এসেছে। শুক্রবার আরাকচি জানিয়েছেন, ইরান কোনো ধরনের হুমকি বা জবরদস্তি মেনে নেবে না এবং হুমকির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

