দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা একটি ফ্লাইদুবাই বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়ে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করেছে। বিমান সংস্থা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটির ককপিটে থাকা দুই কো-পাইলটের মধ্যে এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়, যা বিমানটিকে নাশকতার দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা ছিল।
ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, বিমানে থাকা সকল যাত্রী নিরাপদ রয়েছেন। শুরুতে নেতানিয়াহুর মুখপাত্র এটিকে হাইজ্যাকিং বলে মনে না করলেও, পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে ককপিটে পাইলটদের মধ্যে একটি সহিংস সংঘর্ষ হয়েছে। নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানান, এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেছেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নষ্ট করে যাত্রীদেরসহ বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘটনাটিকে একটি 'জিহাদি সন্ত্রাসী হামলা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে ছুরিকাঘাতকারী পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। যাত্রী ও তাদের স্বজনদের বর্ণনায় উঠে এসেছে যে, বিমানে থাকা যাত্রীরা চিৎকার ও ছুরি বের করার দৃশ্য দেখতে পেয়েছিলেন এবং পাইলটদের শান্ত করতে সহায়তা করেছিলেন। তবে এই ব্যক্তিগত বর্ণনাগুলো কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নিশ্চিত করেনি। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভিরও ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যদিও ইসরায়েলি তদন্তকারীরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংজ্ঞা নিশ্চিত করেননি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পর বিমানটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি সংকেত পাঠায়। এরপর বিমানটি দুই মিনিটেরও কম সময়ে ১৭,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতা হারিয়ে ফেলে। এই সময় পাইলটরা হাইজ্যাকিং বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত হিসেবে পরিচিত '৭৫০০' কোডটি ব্যবহার করেন।
ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা টাইমস অব ইসরায়েলকে জানিয়েছেন যে, একটি বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হয়। বর্তমান ঘটনাটি ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন এবং ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার তৃতীয় বার্ষিকীর ঠিক আগে ঘটল, যা নিয়ে নেতানিয়াহু সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।

