ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম বুধবার জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমান ঘাঁটিতে গত সপ্তাহান্তে ঘটা সন্দেহজনক কার্যকলাপের পেছনে ইরানের সম্পৃক্ততার শক্তিশালী ইঙ্গিত রয়েছে। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের এই ঘটনাটি অত্যন্ত জটিল এবং পুলিশের পক্ষ থেকে এর তদন্ত চলছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন যে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সন্দেহভাজনদের সম্পর্কে অবগত এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্র এতে যুক্ত থাকতে পারে। বার্নাম স্কাই নিউজকে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান এই ঘটনায় কোনো না কোনোভাবে ভূমিকা রেখেছে বলে তারা বিশ্বাস করেন। তিনি আরও বলেন, তারা এতদিন নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তবে এখন তাদের কাছে এই বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে।
পুলিশ মঙ্গলবার জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনো বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়নি, তবে পেট্রোল পাওয়া গেছে। ঘটনার দিন ভোরে তিনটি সাদা ভ্যান ঘাঁটির দিকে যেতে দেখা যায় এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা পুলিশকে জানান যে, তিনি কাছের একটি গ্রামে ভ্যানগুলোর পাশে মুখোশধারী ব্যক্তিদের রাস্তা অবরোধ করে রাখতে দেখেছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ বিস্ফোরক রাখা ও সন্ত্রাসবাদের সন্দেহে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেফতার করেছিল, তবে তিন দিনের তদন্ত শেষে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। দ্য টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন নিজেই পুলিশকে সতর্ক করেছিলেন।
এদিকে, লন্ডনে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস তেহরানের সম্পৃক্ততার সব ধরনের জল্পনা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্লেখ্য, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমান ঘাঁটিটি মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে ব্যবহার করে থাকে এবং এর আগে তেহরান লন্ডনকে সতর্ক করে বলেছিল যে, তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি যেন ওয়াশিংটনের সামরিক কাজে ব্যবহৃত না হয়।

