পূর্ব জার্মানির জনবিরল এলাকায় বিশ্বের উচ্চতম হিসেবে দাবি করা একটি উইন্ড টারবাইন স্থাপন করা হয়েছে। ৩৬৫ মিটার বা ১,১৯৭ ফুট উচ্চতার এই বিশাল কাঠামোটি উচ্চতায় প্যারিসের আইফেল টাওয়ারকেও ছাড়িয়ে গেছে। বার্লিনের দক্ষিণ-পূর্বে লুসাটিয়া অঞ্চলের একটি বিদ্যমান উইন্ড ফার্মে এই প্রোটোটাইপটি নির্মাণ করা হয়েছে। এক সময় লিগনাইট বা কয়লা খনির জন্য পরিচিত এই অঞ্চলটি বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকেছে। এই সপ্তাহে টারবাইনটির নির্মাণকাজ পূর্ণ উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং আগামী ১৯ নভেম্বর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
টারবাইনটি নির্মাণকারী ড্রেসডেন-ভিত্তিক প্রকৌশল সংস্থা 'গিকন'-এর প্রধান নির্বাহী জোচেন গ্রসম্যান জানান, অধিক উচ্চতায় বাতাস অনেক বেশি শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল থাকে, যা কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। সাধারণত প্রচলিত উইন্ড টারবাইনের হাবের উচ্চতা ২০০ মিটারের নিচে থাকে। গ্রসম্যান বলেন, ৩০০ মিটার উচ্চতায় বাতাস অত্যন্ত শক্তিশালী ও নিরবচ্ছিন্ন হওয়ায় একই ধরনের টারবাইনের তুলনায় দ্বিগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এর ফলে বছরের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।
এই টারবাইনের হাবের উচ্চতা ৩০০ মিটার এবং ব্লেডসহ মোট উচ্চতা ৩৬৫ মিটার। এটি আইফেল টাওয়ারের ৩৩০ মিটারের চেয়ে বেশি, তবে বার্লিনের টেলিভিশন টাওয়ারের (৩৬৮ মিটার) চেয়ে কিছুটা ছোট। বর্তমানে টারবাইনটির অভ্যন্তরীণ তার সংযোগের কাজ চলছে। গিকন এই প্রোটোটাইপ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিন থেকে পাঁচটি অতিরিক্ত উঁচু টারবাইন নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ উইন্ড ফার্ম তৈরির পরিকল্পনা করছে।
গ্রসম্যানের মতে, এই বিশাল টারবাইনগুলো উইন্ড ফার্মের জন্য জমির অভাব মেটাতে কার্যকর হতে পারে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান সাইটগুলোকে ছোট ও বড় টারবাইনের সমন্বয়ে 'টু-স্টোরি' বা দোতলা উইন্ড ফার্মে রূপান্তর করা সম্ভব। জার্মানি দীর্ঘ সময় ধরে বাতাস ও সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে। ২০২৩ সালে দেশটি তাদের শেষ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে জার্মানির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫৯.১ শতাংশ এসেছে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে, যার মধ্যে ২৯.৪ শতাংশই ছিল বায়ুবিদ্যুৎ। এছাড়া ২০৩৮ সালের মধ্যে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধের পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।

