উইমেনস প্রিমিয়ার লিগের (ডব্লিউপিএল) প্রথম দুই মৌসুমে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর গুজরাট জায়ান্টস অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। উদ্বোধনী চক্রের শেষ মৌসুমে দলটি তৃতীয় স্থান অর্জন করে এবং ২০২৬ সালের ডব্লিউপিএল-এর লিগ পর্বে দ্বিতীয় স্থানে থেকে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়। যদিও তারা ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে, তবুও প্রধান কোচ মাইকেল ক্লিঙ্গার একে দলের জন্য একটি বড় উন্নতি হিসেবে দেখছেন।
এই উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ২০২৭ সালের প্লেয়ার নিলামের আগে গুজরাট জায়ান্টস তাদের স্কোয়াডের বড় একটি অংশ ধরে রেখেছে। অথচ দ্বিতীয় মৌসুমের আগে তারা ১১ জন খেলোয়াড়কে ছেড়ে দিয়েছিল। বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অফ-সিজন ক্যাম্পে থাকা ক্লিঙ্গার জানিয়েছেন, দলের এই ঘুরে দাঁড়ানোর মূল দর্শন হলো ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে পাওয়া আস্থা ও ধারাবাহিকতা। বিশেষ করে ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি এই বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
ক্লিঙ্গার বলেন, নিলামে দল গঠন হোক কিংবা প্রস্তুতি, ম্যানেজমেন্ট এবং সিইও তাদের কাজের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন। এটি স্টাফদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক, কারণ তারা জানে যে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব এবং ম্যানেজমেন্ট তাদের পাশে থাকবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দলের খেলোয়াড়রা তাদের পরিকল্পনার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। বিদেশি খেলোয়াড়রা মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও দারুণ মানুষ, যা একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দেশি খেলোয়াড়দের জয়ের আকাঙ্ক্ষা ও ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্য দলকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তবে প্রথমবারের মতো ডব্লিউপিএল ফাইনালে খেলতে হলে বোলিং বিভাগে উন্নতি প্রয়োজন বলে মনে করেন ক্লিঙ্গার। গত মৌসুমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই জায়গাটিতে তাদের আরও কঠোর হতে হবে। তিনি জানান, স্কোয়াডে এমন খেলোয়াড় রয়েছে যারা বোলিংয়ে নতুন সুযোগ পেয়ে নিজেদের প্রমাণ করতে পারবে। ইনজুরির কারণে টিটাস সাধুকে ছেড়ে দিলেও তিনি ক্যাম্পের অংশ হিসেবে আছেন। অন্যদিকে, হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হওয়া কাশভী গৌতম বর্তমানে বিসিসিআই-এর সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে আছেন এবং নিয়মিত বোলিং করছেন, যা দলের জন্য ইতিবাচক খবর।
ভারতীয় ক্রিকেটের ফাস্ট বোলিংয়ের উন্নতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ক্লিঙ্গার বলেন, কয়েক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় ফাস্ট বোলাররা অনেক বেশি শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করেছে এবং তাদের বোলিংয়ে বৈচিত্র্য এসেছে। এছাড়া ডব্লিউপিএল-এর scouting সিস্টেমের মাধ্যমে অনুশকা শর্মার মতো উদীয়মান তারকার উঠে আসাকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে ২০২৭ সালের নিলামের তারিখটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট সিনিয়র উইমেনস টি-টোয়েন্টি ট্রফির ঠিক দুই দিন পর হওয়ায় কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ইংল্যান্ডের ড্যানি ওয়াট-হজকে ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে ক্লিঙ্গার জানান, আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা এবং আইসিসি উইমেনস চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যস্তিকা ভাটিয়ার ফিরে আসা দলের জন্য বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে। ২০২৬ সালে ইনজুরির কারণে খেলতে না পারলেও তার উপস্থিতি দলের ভারসাম্য বাড়াবে। বর্তমানে ১৫ জন খেলোয়াড়কে ধরে রাখা গুজরাট জায়ান্টস নিলামে কোচি থেকে সর্বোচ্চ তিনটি স্লট পূরণ করতে পারবে এবং তাদের হাতে ১.২৫ কোটি রুপি অবশিষ্ট রয়েছে।

