ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে ইসলামিক স্টেট (আইসিস) গোষ্ঠীকে পরাজিত করার লক্ষ্য নিয়ে চালানো ১২ বছরের একটি সামরিক মিশনের অবসান ঘটল এবং দেশটির নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব পুরোপুরি ইরাকি বাহিনীর ওপর ন্যস্ত করা হলো।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বুধবার জানিয়েছে যে, উত্তর ইরাকের এরবিল বিমান ঘাঁটি থেকে শেষ মার্কিন সেনা ও সরঞ্জামসমূহ সুশৃঙ্খলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে ২০২৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী 'অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ'-এর সামরিক মিশনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ইরাকে আইসিসকে একটি সংগঠিত সামরিক হুমকি হিসেবে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে মার্কিন যুদ্ধ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্কের অংশ হিসেবে ইরাকি অংশীদারদের লক্ষ্যভেদী প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে আইসিস ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা দখল করে নিলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি জোট ইরাকি বাহিনীকে সহায়তার জন্য পুনরায় সেখানে ফিরে আসে। যদিও ২০১৭ সালে ইরাক আইসিসের আঞ্চলিক পরাজয় ঘোষণা করে, তবে গোষ্ঠীটি এখনো বিক্ষিপ্ত 'স্লিপার সেল' হিসেবে সক্রিয় রয়েছে।
এই সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা দেশটিতে অবশিষ্ট আইসিস কোষ এবং শক্তিশালী ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের সামলানো নিয়ে নতুন করে চিন্তিত। কুর্দি অঞ্চলের কর্মকর্তারা মার্কিন সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হারানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রত্যাহারের ফলে আইসিসের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে এবং ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি এই প্রত্যাহারকে ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের শক্তির ক্ষেত্রে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরাকি বাহিনী আইসিসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং কোনো অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র থাকা যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করতে তার সরকার কাজ করবে। তবে মিলিশিয়াদের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আল-জাইদি মিলিশিয়া নিরস্ত্রীকরণের সরকারি সময়সীমা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করেছেন।
জোটের বিস্তৃত আইসিস বিরোধী কার্যক্রম ইরাকের বাইরে অব্যাহত থাকবে। সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জোটের সদর দপ্তর জর্ডানে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী সিরিয়ায় জোটের অংশীদার ও সিরীয় সরকারের সাথে মিলে আইসিস বিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন যুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মতে, ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী এখন দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত এবং আইসিস যাতে পুনরায় ইরাকি ভূখণ্ডে শক্তিশালী হতে না পারে, তা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ।

