রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারি এড়িয়ে ভারত থেকে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে গোপন ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত 'বঙ্গবন্ধু মঞ্চ' নামের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, ঝিনাইদহ সদরের নলডাঙ্গা, ঘোড়শাল, মহারাজপুর ও ফুরসন্ধি ইউনিয়নসহ মোট ১৫টি ইউনিয়ন এবং কালীগঞ্জ পৌরসভার নেতাকর্মীরা পর্যায়ক্রমে অংশ নেন। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই অনলাইন বৈঠকে মোট ৬০ জনের মধ্যে ৫৮ জন প্রতিনিধি যুক্ত ছিলেন, যা চারজন মডারেটর পরিচালনা করেন। বৈঠকে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে প্রতিনিধি ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য রাখেন।
এই বৈঠকের এক পর্যায়ে সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের মৃত্যুর কারণে দীর্ঘদিন শূন্য থাকা কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে প্রয়াত সাবেক এমপি আব্দুল মান্নানের স্ত্রী শামীম আরা মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আইয়ূব হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে বর্তমান সরকারের সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিপর্যয় এবং চরম সার সংকটের বিষয়গুলো গ্রামে গ্রামে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য জোর প্রচারণার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই অনলাইন বৈঠকের বিষয়ে স্থানীয় কিংবা জেলা পর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। সীমান্তের ওপারে অবস্থান করে শেখ হাসিনার এই কৌশলগত দিকনির্দেশনা ট্র্যাক করা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রিগান, মোস্তাক আহম্মেদ লাভলু ও আলাল হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা তাদের ফেসবুক পেজে বৈঠকের বিষয়টি শেয়ার করার পর তা জনসমক্ষে আসে। ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশিস বিন্ হাছান জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক জুম বৈঠক বা গোপন সমাবেশের তথ্য তাদের জানা নেই।

